সিনেটে অভিশংসন রুখতে মরিয়া ট্রাম্প

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৪৭

প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হওয়ার পর মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অভিশংসন তদন্ত রুখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই তদন্তু পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজ ও ট্রাম্পের আইনজীবীরা জয় পেতে উঠেপড়ে লেগেছেন। আর বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা চলতি সপ্তাহে সিনেটে বিচার শুরু করতে চান। খবর ডয়চেভেলে ও রয়টার্সের

আজ মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটরা বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করবেন। আবার আজই বিচার শুরু করতে ‘ইমপিচমেন্ট আর্টিকেল’ সিনেটে পাঠানো হতে পারে। গত মাসে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছেন বলে জানিয়েছেন। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাঁচাতে চেষ্টা চালাবেন বলে জানিয়েছেন মিচ ম্যাককোনেল। পেলোসি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সব তথ্যপ্রমাণ সিনেটের হাতে তুলে দেওয়ার পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা সেগুলো যাচাইয়ের পর সাক্ষী তলবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান। কিন্তু আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় অভিশংসন তদন্তকে ‘লোক দেখানো’ করে তোলার বদলে আন্তরিক উদ্যোগের জন্য সিনেটের উপর চাপ বাড়ছে।

পেলোসি সিনেটের সদস্যদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন সাক্ষীদের সাক্ষ্যদানের সুযোগ না দিলে তাদের মূল্য চোকাতে হবে। এমনই প্রেক্ষাপটে সিনেটের উদ্দেশ্যে অভিশংসন তদন্ত পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানালেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রবিবার টুইট বার্তায় এমন চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সিনেট আদৌ অভিশংসনের তদন্তের পথে এগোলে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের ‘উইচ হান্ট’ বা তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়াকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেওয়া হবে। ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ হিসেবে দাবি করে বলেন, তিনি সারাজীবন এই অপবাদ বয়ে বেড়াতে চান না।

উল্লেখ্য, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সাক্ষ্য দেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পর থেকে ট্রাম্প আরো দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ইউক্রেন কেলেঙ্কারির বিষয়ে বোল্টনের সাক্ষ্য ট্রাম্পের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি ইউক্রেনের উপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন- এমন অভিযোগের পক্ষে আরো তথ্যপ্রমাণ প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান দলের ঐক্যে ফাটল ধরতে পারে। তাদের উপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে নিম্নকক্ষ সরাসরি বোল্টনকে তলব করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বোল্টনকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত রিপাবলিকান দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখিয়ে চলেছে। তবে সাক্ষী তলবের প্রশ্নে সামান্য হলেও কিছু মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের আরো সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রশ্নে কয়েকজন রিপাবলিকান সংসদ সদস্য বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের প্রতি সমর্থনের আভাস দিচ্ছেন। অভিশংসন তদন্তের ক্ষেত্রেও এমন ‘বিচ্যুতি’ ট্রাম্পের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।