সাফল্যের ধারায় সাউথ পয়েন্ট

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:০৬

>>  মিঠু মোস্তাফিজ

 

গ্লোবাল ভিলেজের এই যুগে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষকের শিক্ষাদান পদ্ধতির মানোন্নয়ন। শিক্ষাদান প্রক্রিয়ান যথাযথ পদ্ধতি ও কৌশল অনুসরণের মাধ্যমে পড়ালেখাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় ও স্বতঃস্ফূর্ত করা যায়। পাঠদানকে সফল, কার্যকরী ও ফলপ্রসূ করার জন্য কেবল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বক্তৃতা দিলেই হবে না, শিক্ষককে অবশ্যই জানতে হবে আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির কলাকৌশল ও সঠিক শ্রেণি ব্যবস্থাপনা। গতানুগতিক পুঁথিগত শিক্ষাদানের পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতিতে মূল পাঠ্যের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে ভালো ফলাফলে সচেষ্ট সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা-২০১৯-এও বিগত বছরগুলোর মতো ভালো ফলাফল করেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। এই দুই পরীক্ষায় সাউথ পয়েন্টের পরীক্ষার্থী ছিল ১৩৫৪ জন। তার মধ্যে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৫৬ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর শতকরা ৬৩ ভাগ। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের থানাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক গ্রেডিং ফলাফলে রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ গুলশান থানায় প্রথম বা শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়। বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট সম্প্রতি এটি প্রকাশ করেছে। গুলশান থানায় অবস্থিত ১৭টি স্কুল-কলেজের সদ্য প্রকাশিত জেএসসি ফলাফলের ওপর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই ফলাফল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু জেএসসি-পিএসসি নয়, বৃত্তিতেও এদের রেকর্ড রয়েছে। গত বছর গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই ছিল সাউথ পয়েন্টের। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছিল ১৮ জন।

হ্যান্ডনোট, সাজেশন ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠাভ্যাস তথা চর্চা গড়ে তোলার ফলে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বোর্ডসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার রেকর্ড নেই। প্রতি বছরই শতভাগ পাস। জিপিএ ফাইভের হারও প্রতিবছরই ৮০ থেকে ৯০%। শুধু তা-ই নয়, গত বছর গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথ পয়েন্টের, এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১৮ জন। উচ্চশিক্ষার্থে ভর্তির যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, সেখানেও ক্রমান্বয়ে ভালো করছে সাউথ পয়েন্টের শিক্ষার্থীরা।

২০০৯ সালে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসহ উক্ত বছরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নবম স্থান লাভ করে সাউথ পয়েন্ট। পিছিয়ে নেই এদের ইংরেজি মাধ্যম শাখাও। শুরু থেকেই ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় কান্ট্রি হায়েস্ট রেজাল্ট অর্জনের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং ক্যামব্রিজ লার্নার অ্যাওয়ার্ড ও ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সর্বশেষ ২০১৯ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায়ও সাত বিষয়ের ছয়টিতেই ‘এ’ স্টার ও একটিতে ‘এ’ গ্রেড এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় পাঁচ বিষয়ের মধ্যে তিনটিতেই এ স্টার ও দুটিতে ‘এ’ গ্রেড অর্জনসহ অভূতপূর্ব ফলাফল করে তারা। আর এই ফলাফলের জন্য ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলে যথাক্রমে ৭৯% ও ৫৭% শিক্ষার্থী ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা- প্রকৌশলী এম এ রশিদ ও অধ্যক্ষ হামিদা আলী রাজধানীসহ দেশব্যাপী সবুজ মাঠবেষ্টিত খোলামেলা আদর্শ স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০০২ সালে মাত্র ২০০ জন নিয়ে যাত্রা শুরু করে এখন প্রায় ১২০০০ শিক্ষার্থীর পড়ালেখার আশ্রয় হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।