বান্দরবানের পঞ্চম সাঙ্গু সেতু প্রকল্প
বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের গোয়ালিখোলায় সাঙ্গু নদীর ওপরে পঞ্চম সেতু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৭ মাস আগে। এখনো ২২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ সামান্যই এগিয়েছে। বেশ কয়েকটি পিলারসহ আনুষঙ্গিক অনেক কিছুই এখনো বাকি। এই অবস্থা দেখে সেতুর কাজ শেষ হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সরকার এবং এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন প্রকল্পের (সিএইচটিআরডিপি-২) আওতায় ১২ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বান্দরবান সদর উপজেলার গোয়ালিয়াখোলা পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর ওপরে পঞ্চম সেতু তৈরির কার্যাদেশ দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ ২২০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ করে ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর তিন মাস পরও সেতুটির সবকটি পিলার তৈরির কাজও শেষ হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির কাজ এগোয়নি। ব্রিজের মধ্যখানের দুটি পিলার এখনো দৃশ্যমান নয়। পিলার তৈরির জন্য মাটির নিচে পাইলিং করার কাজটি গত রবিবার শেষ হয়েছে মাত্র। শ্রমিকেরা দুই ভাগে গার্ডার ও পিলারের কাজ করছেন। তথ্য সংগ্রহের সময় স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাত তঞ্চঙ্গ্যা, সৈয়দ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, এই কাজে একের পর এক শুধু ঠিকাদার বদলাচ্ছে। কাজের তেমন এগোচ্ছে না। দেড় বছরের মধ্যে সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার বছরেও সেতুটির পিলার তৈরির কাজ শেষ হয়নি। অগ্রগতি দেখে মনে হয় আগামী বছরেও কাজ শেষ হবে না। নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকার ম্যানেজার মোহাম্মদ সফিক বলেন, ব্রিজের অবশিষ্ট পিলারের পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত বেইজ ঢালাইয়ের কাজও শুরু হবে। আগামী বছরের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন হবে।
জানা গেছে, সেতুটি নির্মিত হলে বান্দরবান-চট্টগ্রামের সড়ক পথের দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। এছাড়া বান্দরবানের কুহালং, সদর এবং চট্টগ্রামের ধোপাছড়ি তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ তৈরি হবে। সেতুটির মাধ্যমে বেদ্যপাড়া-ধোপাছড়ি, চেমিডলু পাড়া হয়ে সড়কটি রাঙ্গুনিয়া দিয়ে চট্টগ্রামে সংযুক্ত হবে। কুহালং, সদর এবং ধোপাছড়ি তিনটি ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে বান্দরবান এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিললুর রহমান বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই সেতুটি যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
