ইত্তেফাক রিপোর্ট
৬ শতাংশে আমানত পেলেই ৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা। তারা বলেছেন, সল্পসুদে আমানত না পেলে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ বিতরণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ডাবল ডিজিট বা ১০ শতাংশের ওপরে সুদহার রাখার সুপারিশ নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সভাশেষে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, এসএমই খাতকে সিঙ্গেল ডিজিটের ভিতরে না নিয়ে আসার সুপারিশ করেছিল ব্যাংকাররা; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সুপারিশ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরো জানান বর্তমানে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। সেখান থেকে ব্যাংকগুলোর আমানত একসঙ্গে উঠিয়ে না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ভুয়া ঋণ বন্ধে জামানত সংরক্ষণের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) নতুন চেয়ারম্যান এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, আজকের আমাদের কোনো দাবি ছিল না; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংকিং খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছি।
গভর্নর জানিয়েছেন, সার্কুলারের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকিং খাতের জন্য সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার খুবই জরুরি। তবে এক্ষেত্রে স্বল্পসুদে আমানতের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। ঋণ অবলোপনের বিষয়ে সভায় আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। গত দেড় বছরে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রেজা ইফতেখার জানান, গত দেড় বছরে আমাদের বিফলতা প্রমাণ হয়নি। বাজারের চাহিদাই ছিল এরকম। ২ শতাংশ সুদে ঋণ পুনঃ তপশিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এই কার্যক্রমটি পুরোপুরি ব্যাংকার ও কাস্টোমার সম্পর্কের ভিত্তিতে আগাচ্ছে। ২ শতাংশ সুদে ঋণ পুনঃ তপশিল করবে কি না—সেটা পুরোপুরি ব্যাংকের ব্যাপার। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
