দেশের অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কাছে রোগীর জীবনের চেয়ে অর্থই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাঙের ছাতার মতো দুর্বল অবকাঠামো দিয়ে রোগী ভর্তি ও চিকিত্সা প্রদানের অভিনয় করে রোগীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অনুমোদন পেতে মোট ৩১টি শর্ত পূরণ করতে হয়। কিন্তু প্রদত্ত আবেদনপত্রের ৩১টি তথ্য কাগজে-কলমে ঠিক থাকলেও মালিকরা গুরুত্বপূর্ণ অধিকাংশ শর্তই পূরণ করেন না। যার ফলে প্রসূতি মহিলা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাগুলো এইসব ক্লিনিকগুলোতেই বেশি ঘটছে।
নরসিংদীর মাধবদীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে আমার স্বজনের নবজাতক মৃত্যু আমাদের ভীষণভাবে মর্মাহত করছে। যেখানে ক্লিনিকের চিকিত্সকদের অবহেলা সুস্পষ্ট। শুধু তাই নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে ফাঁকিবাজি ও বাণিজ্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক হাসপাতাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) নামে উচ্চ চিকিত্সা ফি আদায় করছে। প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সুবিধা ও উপকরণ ছাড়াই চলছে অনেক বেসরকারি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)! সেইসঙ্গে ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ লাভের সম্পর্ক গড়ে আছেই। ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিত্সকদের একটি অংশকে দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে নিজেদের ওষুধ লিখিয়ে নেন। আর বাধ্য হয়ে ওসব ওষুধ কিনতে হয় বলে রোগীর খরচের বোঝা বেড়ে যায়।
চিকিত্সাসেবায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জনবল স্বল্পতার যে প্রকট দেখা যায়, তাতে এগুলোকে মৃত্যুর সবচেয়ে সহজ পথই বলা যায়! এভাবে কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক চলতে পারে না। তাই এগুলোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণ সময়ের দাবি।
নূরুল হাসান লিমন
পলাশ, নরসিংদী
