আজ বাংলাদেশ-ফিলিস্তিন ম্যাচ
স্পোর্টস রিপোর্টার
কোচ জেমি ডের পাশে অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল নিয়ে কথা হচ্ছিল। সেখানে নববিবাহিত জামালের বিয়ে প্রসঙ্গে উঠল। হানিমুনে না গিয়ে ফুটবল যুদ্ধে, জামালের সোজাসাপটা জবাব, ‘হানিমুনের চেয়ে দেশের খেলাটাই বড়ো। হানিমুনে পরে যাওয়া যাবে। এখন দেশটা আগে। খেলা শেষ হলে যাওয়া যাবে।’ এরপরই সংবাদ সম্মেলন শেষে বাইরে বেরিয়ে এলে জামালকে ঘিরে ধরেন সংবাদ মাধ্যম। বিয়ে নিয়ে হাজার প্রশ্ন উঠল। মুখ খুললেন জামাল। অকপটে বলতে লাগলেন কিভাবে বিয়ে হয়ে গেল। ‘জামাল বললেন, ‘আমার বাবা বলছে আমার বন্ধুর একটা মেয়ে জার্মানিতে থাকে। তুমি তাকে দেখতে পারো। আমি জিজ্ঞেস করি সে কি করে। ছবি পাঠাও। গত বছর লিগের খেলা শেষে আমার হাতে ৯ দিন সময় ছিল। কোচ জেমি আমাকে ছুটি দিলেন, ডেনমার্ক গেলাম। ডেনমার্ক হতে জার্মানি এক ঘণ্টার সড়ক পথ। জার্মানিতে গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কফিশপে দেখা করি। তারপর আলাপ শুরু হয়। এসএমএসে কথা হয়। তারপর মেয়ের পরিবারে আমিই প্রথম বলেছি বিয়ের কথা।’ কেমন লেগেছে মেয়েকে ? জামাল বললেন, ‘কম্পিউটার সায়েন্স পড়ছে, খুব মেধাবী এবং সুন্দরী। আমার ভালো লেগেছে। আমি আমার পরিবারকে জানাই। ডেনামার্কে বিয়ে করতে হলে সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। আমি আবেদন করে রেখেছিলাম। নির্দিষ্ট একটা সময়ের মধ্যে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করতে হয়। সময়টা ঘনিয়ে এসেছিল। যে কারণে এবার ফেডারেশন কাপের পর আবার ছুটি নিয়ে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলি।’ আই লাভ ইউ কথাটা কে প্রথম বলেছে? প্রশ্ন শুনে জামালের হাসি হা হা হা আমিই প্রথম বলেছি। কেন তুমি বলতে চাও?
আরেক প্রশ্নে জামাল বললেন, ‘আমার বউ ফুটবল খেলা পছন্দ করে না। আগে খেলা দেখেনি। এখন বিয়ে হওয়ার পর ইউটিউবে খেলা দেখে। আমার কাছে বাংলাদেশের জার্সি চেয়েছে। যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারে তাহলে জার্সি এবং পদকটা তাকে দেব।’ স্ত্রীর নাম কি ? জামাল বললেন,‘আমার বউ নাম বলতে না করেছে।’ জামাল ভুঁইয়া বাংলাদেশের ফুটবলে ২০১৩ সাল থেকে খেলছেন। খুবই ভদ্র, মার্জিত এবং মিশুক। একবিন্দু বদনাম নেই যার। বাংলাদেশে অনেক ভক্ত তাকে বন্ধু বানাতে চাইলেও তিনি হাত বাড়াননি। নিজেকে সংযত রেখে দেশের জন্য ফুটবল খেলছেন ডেনমার্কে জন্ম নেয়া জামাল ভুঁইয়া। বাবা-মায়ের মুখে বাংলাদেশের মানুষের কথা শুনে এদেশে আশার স্বপ্ন দেখেন। জাতীয় দলে খেলবেন দেশকে একটা ট্রফি দিতে চান এটাই তার স্বপ্ন।
