সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে অবশেষে যুক্ত হচ্ছে নতুন কোচ। আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইন্দোনেশিয়ার তৈরি নতুন এই কোচগুলো উদ্বোধন করবেন। সেই সঙ্গে ঢাকা-জামালপুর রুটে নতুন ট্রেন জামালপুর এক্সপ্রেস উদ্বোধন করবেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান।
তিনি আরো জানান, এরপর জয়ন্তিকা ও কালনী এক্সপ্রেস কোচ পাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে রেলের কোচ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে মূলত সিলেট রুট। এরপর কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে পুরাতন ট্রেন কোচ বদলে নতুন ইন্দোনেশিয়ান কোচ যুক্ত করা হবে। উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ১৪টি করে নতুন কোচ যুক্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির বেশির ভাগ আসনই ছিল শোভন শ্রেণির। এ জন্য ৩৭৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল যাত্রীদের। কারণ, কোমর সোজা করে প্রায় ১০ ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হতো। এছাড়া ঢাকা-সিলেট রেলপথের জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসেরও জীর্ণ দশা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে মাত্র একটি এসি চেয়ার, একটি নন এসি কেবিন, দুটি শোভন চেয়ার ও একটি ডাইনিং শোভন চেয়ার। বাকিগুলো শোভন শ্রেণির আসন নিয়ে চলছিল।
রেলের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী উদয়ন এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে রাত পৌনে ১০টায় এবং সিলেট পৌঁছে ভোর ৬টা। আবার সিলেট থেকে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে। পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট থেকে সকাল সোয়া ১০টায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছে রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে। এছাড়া ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে সকাল ৯টায় ছেড়ে সিলেটে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টায়।
এদিকে, ঢাকা-সিলেট রুটে জয়ন্তিকা উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন এখনো বেহাল দশার মধ্যে চলছে। কালনী এক্সপ্রেস প্রথম শ্রেণির আন্তঃনগর ট্রেন হলেও নেই খাবার গাড়ি ও কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগি। অন্যদিকে জয়ন্তিকা ট্রেনে যাত্রীর চাপ থাকলেও প্রথম শ্রেণির আসন ও এসি কোচ ছিল না। এখন নতুন করে কোচ সংযোজনে আসন ও এসি আসন বাড়ানো হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়।
