হলিউডের কমেডি সিনেমা ‘লাইক আ বস’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। দুই বান্ধবীর যৌথ ব্যবসা নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন এবং তাদের বিপরীতধর্মী চরিত্রের নানা বৈশিষ্ট্য মজার মজার ঘটনার জন্ম দেয়। সেই ঘটনাবলি নিয়ে আবর্তিত হয়েছে ‘লাইক আ বস’ ছবিটি। এখানে দুই বান্ধবীর একজন মেল পেইগ সেজেছেন অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী মেরি রোজ বায়রিন। ৪০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ১৯৯৪ সালে রুপালি পর্দায় অভিনেত্রীরূপে আত্মপ্রকাশ করেন ‘ডালাস ডল’ ছবির মাধ্যমে। ক্যারিয়ারে শুরুর দিকে পুরো নব্বই দশকজুড়ে অস্ট্রেলীয় সিনেমা ও টিভি পর্দায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবে দর্শকদের প্রথম নজর কাড়েন ২০০০ সালে ‘দ্য গডেস অব ১৯৬৭’ ছবিতে। এ ছবিতে প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন মেরি রোজ বায়রিন। একই সঙ্গে এ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর ভোলপি কাপ পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এরপর হলিউডে পাড়ি জমান। হলিউডে পা রাখার পর ‘স্টারওয়ারস এপিসোড টু :অ্যাটাক অব দ্য ক্লোনস’-এ ছোট্ট একটি রোলে প্রথম তাকে দেখা যায়। সেটা ২০০২ সালের কথা। ছবিটি তাকে মোটামুটি পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৪ সালে ‘ট্রয়’, ২০০৭ সালে ‘টুয়েন্টি এইট উইকস লেটার’, ২০০৯ সালে ‘নোয়ারিং’ রোজকে অনেকটা শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করে। বড়ো পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও নিজেকে ব্যস্ত করে তোলেন। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘ডেঞ্জারাস’-এ দুর্দান্ত অভিনয় করে ঘরে ঘরে ব্যাপক পরিচিত ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন। এই টিভি সিরিজে অভিনয় করে রোজ দুটি প্রাইম টাইম এমি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে দুটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড রোজ বায়রিনকে একজন সুঅভিনেত্রীরূপে সবার কাছে পরিচিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের বালমেইনে তার জন্ম। সেখানেই বড়ো হয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির আটলান্টিক থিয়েটার কোম্পানির একজন হয়ে বেশ অনেকগুলো মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আছে তার। বাবা-মা দুজনেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। চার ভাইবোনের মধ্যে রোজ হলেন কনিষ্ঠ। অভিনয়ের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল প্রচুর। যা তাকে শেষ পর্যন্ত অভিনয় পেশায় হলিউড পর্যন্ত টেনে এনেছে। রোজ বায়রিন অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ডেড গার্ল’, ‘সানশাইন’, ‘অ্যাডাম’, ‘এক্স ম্যান :ফার্স্ট ক্লাস’, ‘নেইবারস’, ‘অ্যানি’, ‘স্পাই’, ‘আই লাভ ইউ ড্যাডি’, ‘জুলিয়েট নেকেড’, ‘পিটার র্যাবিট’, ‘আই অ্যাম মাদার’, ‘ইনস্টেন্ট ফ্যামিলি’ প্রভৃতি। হালে ‘লাইক আ বস’ ছবিটি অভিনেত্রী হিসেবে তাকে আরো অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে বলে বাঘা বাঘা সমালোচকরাও স্বীকার করেছেন। আগামী দিনে ‘পিটার র্যাবিট’ ছবিতে কণ্ঠ দিতে রোজকে দেখা যাবে। এর বাইরে ‘ইরেজিস্টেবল’ ছবিতে কাজ করছেন। এ বছর, অর্থাত্ ২০২০-এ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
