মিশুর গানের পাখি হয়ে ওঠার গল্প

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৩৫

গুনগুন করে গান গেয়ে ক্যাম্পাসে গানের পাখি নাম ধারণ তাসনিম মিশুর। অতঃপর গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে গানের প্রতিযোগিতায় আধুনিক ও নজরুল সংগীত শাখায় প্রথম স্থান অর্জন। আর এতেই ক্যাম্পাসের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

নীলফামারীর সৈয়দপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউস্ট) বিবিএ’র তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসনিম মিশু। গানের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ তার। হতে চান বড় শিল্পী। ক্যাম্পাসে এখন সকলের কাছে প্রিয় নাম তাসনিম মিশু।

জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিশুকে সরব হতে দেখা যায়। সহপাঠী সাগুফতা নিলুফা বলেন, ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান মানে মিশু খুঁজে পাওয়া। ওর গান আমাদের মুগ্ধ করে। বাউস্টের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জ্যোতি গোস্বামী জানান, মিশুর গায়কী অসাধারণ। ওর গানের আবেশে ডুব দিতে ইচ্ছে করে। দারুণ গায় সে।

ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রোনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেহেদী হাসান তো এরই মধ্যে মিশুর ফ্যান হয়ে ওঠেছেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে প্রিয় নাম মিশু। এক কথায় বিস্ময় সে।

তাসলিম মিশুর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, আমার ধ্যানে-জ্ঞানে সংঙ্গীত। প্রথমত আমার মা গৃহিনী ফেরদৌসি বেগমের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি। বাবা ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেনও গান পাগল মানুষ। তিনি আমাকে লেখাপড়ার পাশাপাশি গান শিখতে উদ্বুদ্ধ করেন। বর্তমানে সৈয়দপুরে স্বনামধন্য সংগীত শিক্ষক ওস্তাদ জান্নাতুল ইসলাম কবীরের কাছে ধ্রুপদী সংগীতের তালিম নিচ্ছি।

তাসলিম মিশুর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম রাখি বলেন, সত্যি অসাধারণ গান করে মিশু। সে গোটা ক্যাম্পাস মাতিয়ে রেখেছে। আমি মনে করি মিশু একদিন অনেক বড় শিল্পী হবে।

তাসনিম মিশু ক্যাম্পাসের বাইরেও সৈয়দপুর শহরে বেশ জনপ্রিয় একজন শিল্পী। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সৈয়দপুর শাখার সংগীত সম্পাদক তিনি। সংগঠনের সতীর্থ শেখ রোবায়তুর রহমান তাকে নিয়ে গর্ব করে বললেন, মিশু অনেক ভালো গান গায়। সে আমাদের গর্ব।

বাউস্ট শিক্ষার্থী মিশু ইতিপূর্বে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল সংগীতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি বেসকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একাধিক রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। তার একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। যাতে অসংখ্য গান রিলিজ হয়েছে তার।