তাইওয়ানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন বলেছেন, ‘চীনকে অবশ্যই আমাদের প্রতি সন্মান দেখাতে হবে। তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।’ বিবিসির কাছে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।
গত শনিবার সাই ইং ওয়েন দ্বিতীয় দফায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনের পর এই প্রথম তিনি চীনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। তিনি বলেন, চীনকে বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। তাদেরকে এই কথা মাথায় রেখেই তাইওয়ানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কেননা আমাদের রয়েছে সফল গণতন্ত্র। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও আমাদের অবস্থা ভালো। তাই চীনের কাছ থেকে আমরা সেই সম্মানজনক মানসিকতার বহি:প্রকাশ চাচ্ছি। চীন দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে তাইওয়ানের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব রয়েছে। আর এ কারণে এই ভূখণ্ডকে দখল করে নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে দাবি করে। এ প্রসঙ্গে সাই বলেন, স্বশাসিত এই দীপটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করতে পারে না। আমরা এর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে কোনো আপস নয়।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তাই এ নিয়ে নতুন করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা একে ‘দ্য রিপাবলিকান অব চায়না, তাইওয়ান’ বলে ডাকি। নতুন করে কেউ যদি একে নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা করে তা কখনোই কাঙ্ক্ষিত হবে না। চীনবিরোধী এ নেতা বলেন, পরিস্থিতি এখন অনেক পালটে গেছে। কেউ যদি এ ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরির মাধ্যমে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তা মেনে নেওয়া হবে না। সাই বলেন, এ নিয়ে চীনের চাপের মধ্যে আমাদের থাকতে হচ্ছে। তাদের সেনা ও বিমানবাহী রণতরী এ দ্বীপের চারপাশে রয়েছে। একই ঘটনা তারা হংকংয়ের ওপরও চালাচ্ছে। এ ধরনের হীন মানসিকতাকে আমরা কখনোই সমর্থন করতে পারি না।
চীন বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। তাইওয়ানের এ মানসিকতাকে এক চীন নীতির বিরুদ্ধাচারণ বলে বেইজিং মনে করে। আর এ কারণে চীনের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, তাইওয়ানে তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে বলপ্রয়োগে দ্বিধা করবে না। সাম্প্রতিক নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে সাই ইং পেয়েছেন ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এর মধ্য দিয়ে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, একক চীনের ধারণার জন্য তাইওয়ানবাসী যে আগ্রহী নয়। তারা চীনের অধীনস্ত থাকতে চায় না।
