ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কবলে পড়েছে বোরো বীজতলা। এ কারণে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতাপঁচা রোগ এবং চারা হলুদ হয়ে দুর্বল হওয়াসহ মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে খুলনা অঞ্চলের কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। খুলনা জেলা কৃষি দপ্তর সূত্র জানায়, এবার খুলনা জেলায় ৬০ হাজার ৯১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষক মো. আতিয়ার রহমান বলেন, এমনিতেই কারেন্ট পোকার আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমন ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপর আবার ঘন কুয়াশা এবং অতিরিক্ত শীতে বোরো বীজতলাও হুমকির মুখে রয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষক রামকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, ধান বিক্রি করতে গেলে, ধানের দাম নেই। কিন্তু বীজ কিনতে গেলে দাম আকাশ ছোঁয়া। তারপরও নতুন স্বপ্ন নিয়ে বোরো বীজতলা বুনেছি। এখন কুয়াশা ও শীতে কী হয় বুঝতে পারছি না।
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা এলাকার কৃষক মো. জাফর মল্লিক জানান, আমনতো গেলো কারেন্ট পোকার পেটে। ধান পাইনি। আবার বোরো বীজ বুনেছি। এখন পিছিয়ে আসার পথ নেই, আশায় বুক বেঁধে আছি। রূপসা উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, চারার বৃদ্ধিতে নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য ঘন কুয়াশা ও বেশি শীতের সময় বোরো ধানের বীজতলা সকাল ১০টা থেকে সাদা পলিথিন শিট দিয়ে ঢেকে রেখে সন্ধ্যার পূর্বে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ পঙ্কজ কান্তি মজুমদার বলেন, ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীত থেকে বোরো বীজতলা রক্ষা করতে হলে প্রথমত পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং ছত্রাক নাশক প্রয়োগ, ভোরের সেচের উষ্ণ গরম পানি ছিটানো এবং রাতে ঠান্ডা পানি নামিয়ে দিতে হবে।
