লবণের কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অভিযোগ প্রান্তিক চাষিদের। এখনো প্রায় ২৫ শতাংশ জমি লবণ চাষের আওতায় আসেনি। অথচ মৌসুমের তিন মাস চলে যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি বৃষ্টি ও কুয়াশায় লবণ চাষের ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবারও লবণ উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বিসিক জানায়, এই পর্যন্ত ২৪ হাজার ৯১ মেট্টিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে।
এখন লবণ চাষের ভরা মৌসুম। এই পেশার সঙ্গে জড়িতরা লবণ চাষে পুরোদমে নেমে পড়েছে। তবে প্রান্তিক চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষে নিরুত্সাহিত হচ্ছে। মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা চাষিদের ঋণ দিয়ে আগেই লবণ কিনে নিয়েছে। চাষিরা প্রতি মণ লবণ ১৯০ থেকে ২০০ টাকার বেশি মূল্য পাচ্ছে না। অথচ চাষি থেকে পানির দামে কেনা লবণ মধ্যস্বত্বভোগীরা মিল মালিকদের কাছে মণ ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকায় বিক্রি করছে। জানা যায়, প্রান্তিক লবণচাষিরা মূলধন সংকটে মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ধারস্ত হতে হচ্ছে। সরকারিভাবে চাষিরা কৃষি ঋণ পায় না। ফলে চাষিরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এতে চাষিদের কষ্টের পুরো সুবিধা ভোগ করছে তারা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চাষে খরচ বেড়ে গেছে। শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ-সবই বেড়েছে। এখনো মিল মালিক ও চাষিদের কাছে গত বছরের লবণ মজুত রয়েছে। ছয় মাসের জন্য লবণ চাষের জমি বর্গা দেওয়া হয়। প্রান্তিক চাষিরা জানান, ১ একর ২০ শতক জমিতে চাষ করতে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা শ্রমিক মজুরি, মাসে আড়াই হাজার টাকা খাবার বাবদ, পলিথিনবাবদ প্রায় ১৭ হাজার, জমির খাজনা বাবদ ৭০ থেকে ১ লাখ টাকা, পানিবাবদ প্রায় ১২ হাজার টাকা ও ৬ হাজার টাকার সরঞ্জামবাবদ খরচ হয়ে থাকে। তার বাইরে আরো অন্য খরচ রয়েছে। আর ১ একর ২০ শতক জমিতে প্রায় ৬০০ মণ লবণ উত্পাদন হয়ে থাকে। কক্সবাজারের লবণচাষি মাহমুদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আবহাওয়ার কারণে এবার কিছুটা দেরিতে চাষ শুরু হয়েছে। প্রান্তিক চাষিদের সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। অনেকে এখন লবণ চাষ ছেড়ে দিয়েছে। তাদের সরকার ব্যাংকসুবিধা প্রদান করলে চাষি আগ্রহী হবে। নানা চাষাবাদ কমে গেলে উত্পাদনে ঘাটতি দেখা দিবে। আমি এবার ৪৫৩ কানি জমিতে লবণ চাষ করেছি।’
কক্সবাজার, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ ও বাঁশখালীতে উপকূলীয় এলাকায় লবণের চাষ হয়ে থাকে। বিসিক লবণচাষিদের টেকনিক্যাল সুবিধা প্রদান করে থাকে। এ ব্যাপারে বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. শামীম আলম ইত্তেফাককে বলেন, ৬০ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়ে থাকে। এই পর্যন্ত ২৪ হাজার ৯১ টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। ১৮ লাখ মেট্টিক টন লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে একটু বিলম্বে চাষ শুরু হয়েছে। প্রান্তিক চাষিরা প্রতি মণ ১৯২ টাকা দরে বিক্রি করছে।’
