‘লঙ্কান ফুটবলেও স্ট্রাইকার সংকট’

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০২

বাংলাদেশ থেকে ফুটবল খেলে যাওয়ার পর পাকির আলি যখনই ঢাকায় এসেছেন, সেটা শ্রীলঙ্কান কোচ হিসেবেই। ঢাকায় এলেই সংবাদমাধ্যম এই লঙ্কান ফুটবলারকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখায়। তাকে নিয়ে অনেক কথা হয়। কারণ এই পাকির আলি আবাহনীর জার্সি গায়ে অনেক স্মরণীয় স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে। দীর্ঘদিন স্টপার পজিশনে খেলেছেন। আবাহনীর রক্ষণ বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন তিনি। একবার ইরাকি শামির সাকির খেলতে এলেও পাকির আলি ছিলেন নিজের জায়গায়। পাকির আলির স্পর্শে মোনেম মুন্না জ্বলে উঠেছিলেন। মুন্না, কায়সার হামিদ, আবু ইউসুফকে সেরা ডিফেন্ডার মনে করছেন শ্রীলঙ্কান ফুটবল কোচ পাকির আলি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে অংশ নিতে ঢাকায় এসেছে শ্রীলঙ্কা। গতকাল সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিন ম্যাচ দেখতে। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় পাকির আলির। এখনো পুরো বাংলায় কথা বলতে পারেন। কথা শুনলে মনে হবে বাংলাদেশি। পাকির আলী বললেন, ‘বাংলা শিখতে বাধ্য হয়েছিলাম। ১৯৮০ সালে আমি ঢাকায় আসি ভারত থেকে। আবাহনী ক্লাবে গেলে বুয়াকে বলি ভাতের সঙ্গে চিকেন হবে কি না। বুয়া বলল মুরগি মুরগি। আমি তো মুরগি বুঝি না। তখন চিকেন বোঝানোর জন্য কক কক করে শব্দ করলে বুয়া মাথা নেড়ে সায় দেয়। তখনই বুঝতে পারলাম বাংলা শিখতে হবে।’

দুই ছেলে ও দুই মেয়ে পাকির আলির ঘরে। এক মেয়ে তার স্বামীর সঙ্গে সুইডেনে থাকেন। আরেক মেয়ের স্বামী থাইল্যান্ডে শ্রীলঙ্কা এয়ারওয়েজের কান্ট্রি ম্যানেজার। এক ছেলে মালদ্বীপে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠানের অপারেশনস ম্যানেজার। আরেক ছেলে হোটেল ম্যানেজম্যান্টে পড়ছেন। আর পাকির আলি জাতীয় কোচ হিসেবে  ফুটবল নিয়েই ব্যস্ত থাকছেন।

শ্রীলঙ্কা শেষ পাঁচটি ম্যাচ খেলে সব হেরেছে। সমালোচনা হয়েছে তার দেশে। তবু লঙ্কান ফেডারেশন পাকির আলির ওপর আস্থা রাখছে। পাকির আলি বললেন, ‘আমরা ভবিষ্যত্ দল গড়ার জন্য কাজ করছি। ঘুরে ঘুরে খেলোয়াড় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। এখন যে দলটা নিয়ে এসেছি, সেখানে তরুণের সংখ্যা বেশি। কিছু সিনিয়র ফুটবলার নিয়েছি।’

এসএ গেমস ফুটবলে শ্রীলঙ্কা ভুটানের কাছে ৩-০ গোলে হারে, নেপালের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিফেন্ডার গোল করেছে। স্ট্রাইকারের সংকট শ্রীলঙ্কায়।’ বাংলাদেশও এই সংকটে ভুগছে। কিন্তু লঙ্কান ফুটবলে স্ট্রাইকারের সংকট কেন? পাকির আলি বললেন, ‘আমাদের ওখানে ক্লাবগুলো বিদেশি স্ট্রাইকার আমদানি করে। রেজিস্ট্রেশন তিন জন, দুই জন খেলবে।’