জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের গত ১৪ জানুয়ারির আলোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংবিধান স্বীকৃত আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ ধরনের বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার এক আলোচনায় সংসদ সদস্যদের একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে অপরাধটি দমনে ধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি তুলে ধরা হয়, যা গভীরভাবে নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একই আলোচনায় অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই পন্থার ‘কার্যকারিতা’ তুলে ধরে তারা তা এক্ষেত্রেও প্রয়োগের জোর দাবি জানান, যা একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত্ উত্থাপিত বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণ করে; অপরদিকে এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উত্সাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অশনিসংকেত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরনের বেআইনি ও অযাচিত দাবিকে সংবিধানস্বীকৃত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পথে অপ্রতিরোধ্য অন্তরায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায় না।
ড. জামান আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে মন্তব্যগুলো আবেগতাড়িত, তবে আইনপ্রণেতা হয়ে তারা কেমন করে ভুলে গেলেন আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রাধান্যের কথা। এই অবস্থান আইনশৃঙ্খলা সংস্থাসমূহের পেশাদারিত্বকে অবক্ষয়ের মুখে ঠেলে দেবে; বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা বৃদ্ধি করবে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভ্যন্তরে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বাড়াবে এবং ট্রিগার-হ্যাপি (হত্যাই অপরাধ দমনের একমাত্র উপায়) সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাবে।
