সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমিতে চলছে ২১ দিনের ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উত্সব ২০২০’। গতকাল বুধবার ছিল এই উত্সবের ত্রয়োদশ দিন। বিকালে একাডেমির নন্দনমঞ্চে শুরু হয় এ দিনের কার্যক্রম। এরপর চমকপ্রদ অ্যাক্রোবেটিক শো নিয়ে মঞ্চে আসে একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দল। এদের চোখ ধাঁধানো পরিবেশনা শেষ হতে না হতেই মঞ্চে আসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা। এ পর্বে দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু শৈলী ও শুশমি। এতে পরপর দুটি সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে পল্লবী, ড্যান্স থিয়েটার। দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করে স্বরচিত্র আবৃত্তি সংগঠন।
জেলা পরিবেশনা নিয়ে মনোজ্ঞ সব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয় কিশোরগঞ্জ, বাগেরহাট ও গাজীপুর জেলার শিল্পীরা। সবশেষে রাত ৮টায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনাভানের পুঁথি’ পরিবেশন করে গাজীপুর জেলার শিল্পীরা। ২৩ জানুয়ারি শেষ হবে এই উত্সব।
শাহবাগে উদীচীর প্রতিবাদী বাউল গানের আসর
ভুয়া অভিযোগে গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং কারাভ্যন্তরে নির্যাতিত শরিয়ত বয়াতির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল বুধবার বিকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদী বাউল গানের আসর থেকে এ দাবি জানানো হয়। আসরের শুরুতে বাউল গান পরিবেশন করেন বাউল শাহ আলম সরকার। এরপর একে একে গান পরিবেশন করেন অবিনাশ বাউল, সাজেদা বেগম সাজু, সুরাইয়া আক্তার ঊর্মি, হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, দেবাশীষ প্রমুখ। তারা সবাই আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ, ধর্মান্ধতাবিরোধী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষে নানা গান পরিবেশন করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে আলোচনা করেন উদীচী এবং অন্যান্য সমমনা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, যে আসর থেকে শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানে তিনি ধর্ম অবমাননা করার মতো কোনো বক্তব্য রাখেননি। বরং, তিনি যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, যারা তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দিকে উদ্বুদ্ধ করছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় কথা বলেছেন।
