ক্যারিবিয়ানরা সবসময় আমুদে চরিত্র। বুধবার রাতে ২২ গজে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছেন আন্দ্রে রাসেল। ফাইনালের টিকিট পেয়েই তুষ্ট থাকতে চান না রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক। বুধবার রাতে ম্যাচ শেষে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ফাইনাল জয়ের পরই পার্টি হবে।
চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে ২ উইকেটের দুরন্ত জয়ের পর এখন ফাইনালে চোখ রাজশাহীর। রাসেল বলেছিলেন, ‘আমাদের দুই দিনের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে। আমি সেই ম্যাচের পরই পার্টি করতে চাই।’
গতকাল বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ট্রফিসহ ফটোসেশনে এসে রাসেল আবারও জানান, তার দলটা ফাইনালে জয় ভিন্ন কিছুই চিন্তা করছে না। আজ মিরপুর স্টেডিয়ামে বিপিএলের ফাইনালে খুলনার মুখোমুখি হবে রাজশাহী। ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
ট্রফি বগলদাবা করার দিকেই নজর রাজশাহীর। গতকাল রাসেল বলেছেন, ‘ফাইনালে যাওয়াতেই আপনি তাদের জয়ের আশাই করতে পারেন। জয় ছাড়া আর কোনো কিছুই আমাদের মনে নেই। আমরা গতরাতে (বুধবার) দলগতভাবে খেলেছি। আমরা দেখিয়েছি যে আমরা পারি এবং আশা করি আগামীকাল (আজ) রাতেও আমরা নিজেদের নিয়ে ভালো প্রতিরোধ গড়তে পারব।’
কাগজে-কলমে এবারের আসরের অন্যতম শক্তিধর দল ছিল রাজশাহী। এক ঝাঁক অলরাউন্ডারে ভরা পদ্মা পাড়ের দলটি। লিগ পর্বে ৮ জয় নিয়ে প্লে-অফ খেলেছিল তারা। প্রথম কোয়ালিফায়ারে হারলেও বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতে ফাইনালে উঠে রাজশাহী। তবে ফাইনালের প্রতিপক্ষ খুলনার বিপক্ষে তিক্ত স্মৃতি রয়েছে দলটির।
টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে রাজশাহী-খুলনার লড়াইটা ১-১ এ সমতা ছিল। তৃতীয় সাক্ষাতে অবশ্য (প্রথম কোয়ালিফায়ার) হেরেছিল রাজশাহী। ২-১ এগিয়ে আছে খুলনা। আজ চতুর্থ সাক্ষাত্টা তাই রাজশাহীর জন্য সমতায় শেষ করার মঞ্চ। একই সঙ্গে প্রথমবার বিপিএল ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জনের সুযোগ। এর আগে বিপিএলে একবারই ফাইনাল খেলেছিল রাজশাহী বিভাগের দল। ২০১৬ সালে সেবার ড্যারেন স্যামির নেতৃত্বে ফাইনালে ঢাকা ডাইনামাইটসের কাছে হেরেছিল রাজশাহী কিংস। দ্বিতীয়বার ফাইনালের মঞ্চে এসে ট্রফি নিয়েই ফিরতে চাইবে দলটি।
ব্যাটিংয়ে ওপেনিংয়ে লিটন দাস, আফিফ হোসেন ভালো শুরু এনে দিচ্ছেন দলকে। মিডল অর্ডারে শোয়েব মালিক, আন্দ্রে রাসেলরা রয়েছেন। লোয়ার অর্ডারে মোহাম্মদ নেওয়াজও ঝড় তুলতে পারেন। তাদের বোলিং আক্রমণ বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। মোহাম্মদ ইরফান, আবু জায়েদ রাহী, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আন্দ্রে রাসেলরা পেস আক্রমণে আছেন। স্পিনে নেওয়াজ, আফিফ, তাইজুল এমনকি শোয়েব মালিকও বেশ কার্যকর।
প্রতিপক্ষ খুলনার কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে নিয়ে পরিকল্পনা করছে না রাজশাহী। পুরো দলকে নিয়েই ভাবছে তারা। গতকাল রাসেল বলেছেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট কোনো একজন খেলোয়াড়ের দিকে লক্ষ্য রাখছি না। তাদের অনেক ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় আছে এবং আমরা অবশ্যই দুয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে পরিকল্পনা করতে যাচ্ছি না। আমরা ব্যাটিং-বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই পুরো দলটিকে নিয়েই পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।’
প্রথম ও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ভালো না করলেও রাসেলের আশা ফাইনালে লিটন-আফিফ রান পাবেন। দুই ওপেনারের উপর আস্থা আছে অধিনায়কের। মিরপুরে আজ ভালো উইকেট থাকবে ধারণা এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের। যেখানে ব্যাটসম্যান, বোলাররা সমানভাবে সুবিধা পাবেন।
