২৪ বছর পর দেশে ফিরেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

১১ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রুহুল আমিন। সেই থেকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আশায় ২৪ বছর কাটিয়ে দিয়েছিলেন প্রবাসে। সেই গ্রিনকার্ড পেয়ে দেশে ফিরছিলেন তিনি। বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় বেশ রোমাঞ্চিত ছিলেন রুহুল আমিন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন ‘২৪ বছর পর দেশে ফিরছি’। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রুহুলকে নিতে গিয়েছিলেন তার বাবা ও ভাইয়েরা। পরিবারের সঙ্গে মাইক্রোবাসে নিজের বাড়ি সিলেট ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান রহুল আমিন (৩৫)। বুধবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুরে মাইক্রোবাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় আহত হয়েছেন আরো পাঁচ জন। আহতরা হলেন—রুহুলের বাবা আলিম উদ্দিন, ছোটো ভাই নুরুল আমিন ও ফখরুল আমিন এবং মাইক্রোবাস চালক বাদশাহ মিয়া। আহত অপর নারী যাত্রীর পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। নুরুল আমিন ও বাদশাহ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির নামনগর এলাকার আলিম উদ্দিনের ছেলে রুহুল।

রুহুলের স্বজনরা জানান, গ্রিনকার্ড নিয়ে ২৪ বছর পর বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় রুহুলদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই নিহত হন রুহুল। পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। খায়রুল আমিন নামে এক ভাই ব্রাজিল হয়ে দুই বছর আগে আমেরিকা পাড়ি দিয়েছেন। ছোটো ভাই নুরুল আমিন ও ফখরুল আমিন এবং ছোটোবোন লেখাপড়া করছে। স্বজনরা আরো জানান, মাকে দেখতে আর বিয়ে করতে ছয় সপ্তাহের জন্য দেশে আসছিলেন তিনি। মঙ্গলবার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয় তার।

রুহুল যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে পৌঁছে দেশে মায়ের কাছে ফোন করে জানান ‘আগামীকাল দেশে আসবো মা’। সেই মায়ের মুখ আর দেখা হলো না তার। ছেলের মৃত্যু সংবাদে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা।