চসিকের বড়ো দুই প্রকল্পের অগ্রগতি সামান্য

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৭

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বড়ো দুই প্রকল্পের কাজ শেষ করার মেয়াদ শেষ দিকে এসে পৌঁছালেও এখনো পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করতে পারেনি সংস্থাটি। প্রকল্পগুলো হলো বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্প এবং সেবক নিবাস প্রকল্প। এর মধ্যে একটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণের ছয় বছর শেষ হয়েছে। নানা জটিলতায় প্রকল্প দুটির কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে চসিককে নানা সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মধ্যে খাল খনন প্রকল্পে অধিগ্রহণের জন্য চসিককে যে অর্থ খরচ করতে হবে, সেটিরও সংকট আছে। আমরা পুরো প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’

চসিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালে বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য সরকার ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। প্রকল্পে ২৪৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা সরকার এবং ৮১ কোটি টাকা চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করার  কথা। ২০১৪ সালের ২৪ জুন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলেও প্রশাসনিক অনুমোদন মেলে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট। ঐ সময় প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নতুন খালটি নগরীর বারইপাড়ার চাক্তাই খাল থেকে শুরু করে শাহ আমানত রোড হয়ে নূরনগর হাউজিং সোসাইটির মাইজপাড়া দিয়ে পূর্ব বাকলিয়া হয়ে বলিরহাটের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়বে। খালটির দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার এবং প্রস্থ হবে ৬৫ ফুট।  এই প্রকল্পের অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবর। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের জন্য পত্র দেয় চসিক। ঐ সময় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় ‘এলাইনমেন্ট’ জটিলতায়। পরে ‘এলাইনমেন্ট’ ঠিক করে সংস্থাটি। ঐ সময় প্রকল্পের বিপরীতে মোট ৬৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ছাড় দেওয়া হয়, যার পুরোটাই জেলা প্রশাসনকে দিয়েছিল চসিক। এরপর বাকি অর্থ না দেওয়ায় জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি।  পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের ব্যয় চার গুণ বাড়িয়ে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর এ্রকনেকে তা অনুমোদন হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, যা প্রথমবারের তুলনায় চার গুণ বেশি। দ্বিতীয় দফা প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

প্রকল্পটির পরিচালক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, ঐ প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিকের নিজস্ব ফান্ড থেকে ২০৯ কোটি টাকার মতো খরচ করতে হবে। এই অর্থ চসিকের ফান্ডে নেই। প্রকল্পের পুরো অর্থ সরকারি অর্থায়নে করার জন্য সিটি মেয়র চেষ্টা করছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের কাজের উদ্বোধন করা হবে।

অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে চসিকের গৃহীত ২৩১ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার টাকার ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস’ শীর্ষক ১৪ তলাবিশিষ্ট সাতটি ভবন নির্মাণ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদন পায়। এ প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ১৮৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। বাকি ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা চসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বললেই চলে। প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুনিরুল হুদা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তত আরো তিন বছর সময় লাগবে।