ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাইমুল আবরার রাহাতের মৃত্যু ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মতিউর রহমান ছাড়াও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কিশোর আলোর সম্পাদক আনিসুল হক, হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাকটিভেশন কবির বকুল, নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক, নির্বাহী শাহপরাণ তুষার, কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম, ডেকোরেশন ও জেনারেটর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জসীম উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে এ মামলায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারায় (অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ) আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বাদী পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১০ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ক্যাম্পাসে কিশোর আলোর এক অনুষ্ঠানে গত পহেলা নভেম্বর বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আবরার রাহাত। মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। ঐ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো। সেদিন থানায় অপমৃত্যুর মামলার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাহাতের বাবা মুজিবুর ছেলের লাশ নিয়ে যান বলে মোহাম্মদপুর থানার তখনকার ওসি জানিয়েছিলেন। পরে নোয়াখালীতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয় তাকে। এদিকে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হওয়ার জন্য কিশোর আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করার পাশাপাশি কাছের এত হাসপাতাল থাকতে দূরের হাসপাতালে রাহাতকে নেওয়া এবং মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ওঠে। তার মধ্যেই আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান গত ৬ নভেম্বর প্রথম আলো সম্পাদকসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা করেন। সেখানে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়। আদালত অভিযোগ তদন্তের জন্য মোহাম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ১০ জনের বিরুদ্ধে ঐ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতে।
তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম বলেন, অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। গাফিলতির কারণেই বিদ্যুত্পৃষ্ট হয়ে আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের নামেই প্রতিবেদন দিয়েছি।
