চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
উত্পাদন খরচের চেয়ে বাজারমূল্য কম পাওয়ার অভিযোগে এবারের মৌসুমে বোরো চাষে আগ্রহ কমে গেছে বলে জানিয়েছে বেগমগঞ্জের অনেক কৃষক। উপজেলার ঘাটলা গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম, আলাইয়ারপুরের সিরাজুল ইসলাম ও গোপালপুরের আমিন উল্যা জানান, ধান চাষ করতে জমি প্রস্তুত থেকে বীজতলা বসানো, চারা রোপণ, পরিচর্চা ও ধান কাটা পর্যন্ত সার, বীজ, পানি সেচ, শ্রমিকের মজুরি ইত্যাদি দিয়ে এক মণ ধানের উত্পাদন খরচ হয় ৭০০ টাকা। অথচ এক মণ ধান বাজারে বিক্রি করতে হয় ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। সরকার ঘোষিত ১০৫০ টাকা দরে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করার সুযোগ সীমিত। কারণ কৃষি দপ্তর থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়, সেই অনুপাতে সরকারি গুদামে ধান কেনে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম ভূঞা জানান, এক মণ ধান উত্পাদনে ব্যয় হয় ৭০০ টাকা, বর্তমান বাজারে এক মণ ধানের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। গত মৌসুমে বেগমগঞ্জে ৭৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদন হয়েছে। কিন্তু বেগমগঞ্জে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ ছিল ১৪৩১ মেট্রিক টন। বেগমগঞ্জে ৪৮ হাজার কার্ডধারী কৃষক থাকলেও উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন থেকে বাছাই করে ৯৮৩ জন কৃষকের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এতে অনেক কৃষক সরাসরি সরকারি গুদামে বিক্রি করতে না পেরে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। বেগমগঞ্জের কৃষকদের পুরোপুরি ধান চাষে আগ্রহী করতে হলে বরাদ্দ বাড়িয়ে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
