টানা অনশনে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৩

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজার দিন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ৯ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিন জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাকিদের অনশনস্থলেই প্রাথমিক চিকিত্সা চলছে।  এদিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

অসুস্থ হয়ে পড়া অনশনকারীরা হলেন জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের ভিপি উত্পল বিশ্বাস, জিএস কাজল দাস, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অপূর্ব চক্রবর্তী, সয়েল সাইয়্যেন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অর্ক সাহা, ভবতোষ চন্দ্র রায় ও জয়ন্ত বণিক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সবুজ কুমার, পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের সুকেশ দেবনাথ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রবিউল আওয়াল রবি। দুপুর ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় এদের মধ্যে অপূর্ব চক্রবর্তী, অর্ক সাহাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল সাড়ে ৪টায় কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তারা আবারো অনশনে যোগ দেন। এছাড়া সুকেশ দেবনাথকে বিকেল ৫টায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অনশনে সংহতি            জানিয়ে উপাচার্য বলেন, নির্বাচনের তারিখ, দিনক্ষণ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের পূর্বে নির্বাচন কমিশনের গভীরভাবে ভাবা উচিত ছিল যে, এই তারিখটিতে কোনো মূল্যবোধ ও চেতনার পরিপন্থি হয় কি না। অসাম্প্রদায়িক ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এই তারিখ নিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। যেহেতু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনেরই সেহেতু তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরি। তিনি আরো বলেন, সরস্বতী পূজার একটি ধর্মীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ আছে, যার একটি অসাম্প্রদায়িক আবেদন রয়েছে। আবহমান কাল থেকেই বাঙালি সংস্কৃতির শক্তিশালী ধর্মীয় মূল্যবোধ আছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষরাই সরস্বতী পূজায় অংশ নেয়। বিশেষ করে এর আবেদন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরো গভীরভাবে অনুভূত হয়। ফলে উত্সবটিকে নির্বাচন কমিশনের পুনর্বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

এছাড়াও অনশনে সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। তারা হলেন, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল সাহা, সাবেক প্রাধ্যক্ষ ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক অসীম সরকার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারপারসন নমীতা মণ্ডল, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রতন চন্দ্র ঘোষ। এছাড়াও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ওয়াহেদুজ্জামান চাঁন, এজিএস সাদ্দাম হোসেন, সদস্য রাইসা নাসের, মাহমুদুল হাসানসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন হলের নেতা অনশনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সরস্বতী পূজার দিন সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি থেকেই আন্দোলন করে আসছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ১৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়ায় পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গত বুধবার নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে গেলে শাহবাগেই পুলিশি বাধার সম্মুখীন হন শিক্ষার্থীরা। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে অহিংস আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা।