রাজশাহীতে জমজমাট অনলাইনে জুয়া

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮

ক্রিকেট জুয়াড়িদের কাছে জনপ্রিয় বেশ কিছু সাইট বন্ধ করে দেওয়া হলেও রাজশাহীতে ‘বেট ৩৬৫’-তে চলছে জমজমাট জুয়া। সম্প্র্রতি নিজেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ডলার দিয়ে এ জুয়া খেলার প্রবণতা বেড়েছে। এই চক্রের সঙ্গে রয়েছে কিছু ব্যাংকার ও এজেন্ট। যাদের মাধ্যমে ডলার নিয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছে এখানকার এক শ্রেণির লোকজন। তবে এ নিয়ে তত্পর নয় স্থানীয় প্রশাসন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গুগলে ‘টপ টেন বেটিং সাইট ইন বাংলাদেশ’ লিখে সার্চ দিলে ‘জালাগাম ডটনেট/এজেড’ (www.zalagam.net/az) ঠিকানায় পাওয়া প্রায় সবগুলো সাইটই বাংলাদেশ থেকে চালু পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া বেশ কিছু বেটিং সাইটও চালু অবস্থায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশ থেকে এখনো এসব সাইটে জুয়ার আসর বসছে। মোট আটটি সাইটের মধ্যে রাজশাহীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘বেট ৩৬৫’। এই সাইটের মাধ্যমেই ধরা হচ্ছে বাজি। এমন কী খেলা হচ্ছে বিভিন্ন ম্যাচের নানা দিক নিয়েও। তবে জুয়াড়িদের দেওয়া তথ্যমতে, এই সাইট ছাড়াও আরো একাধিক সাইটের মাধ্যমেও জুয়া খেলা হচ্ছে। রাজশাহীর অনেক জুয়াড়ি এখন ব্যস্ত এ নিয়ে। গতকাল শেষ হওয়া বিপিএল নিয়ে গত কয়েকদিন বেশ জমজমাট জুয়ায় মেতেছিলেন অনেকেই। এতে সর্বস্বান্ত হন অনেকেই। ‘বাজিকর’দের বেশির ভাগই শিক্ষিত শ্রেণির। অনলাইনে বাজি ধরা হচ্ছে ডলারে এবং এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। প্রথমে এসব সাইটে জুয়াড়িরা অনলাইনে নিবন্ধন করছে। আর জুয়ায় অংশ নিতে অর্থ পরিশোধ করা হয় ক্রেডিট কার্ডে। যাদের ক্রেডিট কার্ড নেই অথবা যেসব সাইটে বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করা যায় না সেখানেও আছে বিকল্প ব্যবস্থা। দেশে এসব জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ‘এজেন্ট’। তারাই অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া এবং অর্থ পরিশোধের কাজটি করে দেয়। টাকার বিনিময়ে তারা ডলার কিনে নেয় জুয়াড়িদের কাছ থেকে।

রাজশাহী শহরের বাসিন্দা সুমন আলী খেলেন ‘বেট ৩৬৫’-তে। তিনি বলেন, বেট ৩৬৫ দিয়ে তিনি বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ডলার তুলে নেন অ্যাকাউন্টে। এরপর ক্রিকেট, ক্লাবের ফুটবলে বাজি ধরেন ডলারে। আর জিতলে আবারও সেই ডলার এজেন্টের মাধ্যমেই বিক্রি করে দেন।

একই অবস্থা শহীদ করিমের। তিনি বলেন, বন্ধুদের দেখে এখানে অ্যাকাউন্ট খুলে এ জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছি। বড়ো ধরনের ধরা খেয়েছি কয়েকবার। বর্তমানে তিনি মোবাইল অ্যাপসে চারটি অ্যাকাউন্ট দিয়ে জুয়া খেলেন। এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে এমনটি ঘটলে এগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।