তালুকদার মনিরুজ্জামানের মতো মানুষেরা সব সময় আসেন নাঃ মির্জা ফখরুল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩২

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জাতীয় অধ্যাপক তালুকদার মনিরুজ্জামানের স্মরণসভা উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তালুকদার মনিরুজ্জামানের মতো মানুষেরা সব সময় আসেন না। পৃথিবীতে খুব ক্ষণজন্মা পুরুষ তারা।  তালুকদার মনিরুজ্জামান চলে যাওয়ায় দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আজকে যে রাষ্ট্র আমরা সবাই মিলে তৈরি করেছি এটি একটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এ বিষয়টি তালুকদার মনিরুজ্জামান সাহেবের নিশ্চয় একটা দুঃখের কারণ ছিল। তিনি যে খুব একটা জনসম্মুখে আসতেন না, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে  গিয়েছিলেন তার অন্যতম কারণ ছিল এটা। দেশে আজ কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলেই তাকে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলী খান, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, তালুকদার মনিরুজ্জামানের ছেলে সাদিদ মুনির প্রমুখ। ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আলোচনা সভায় অংশ নেন। বক্তারা তালুকদার মনিরুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশে আদর্শ শিক্ষক বলতে যা বোঝায়, তালুকদার মনিরুজ্জামান তাুই ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার পথে দৌড়াননি। তিনি গবেষণা নিয়ে থাকতেন। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় তাকে অনুসরণ করা গেলে দেশে শিক্ষার মান উন্নত হতো।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন খ্যাতনামা প্রফেসর হয়েও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি তার নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে বিদেশিদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন।