যত্রতত্র অবৈধ দোকানপাট বিড়ম্বনায় পর্যটকরা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৯

ইনানী সমুদ্রসৈকত

রফিকউদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের ইনানী বিচে পর্যটক নিরাপত্তায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগে জানা গেছে। যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠায় বিচে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন আগত পর্যটকরা।

জানা গেছে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও একটি অসাধু চক্রের জমি দখল নিয়ে আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বিচের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। ইনানী বিচসংলগ্ন স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, মূলত ইনানী বিচে জায়গা দখল করে নেওয়ার জন্য কয়েকটি গ্রুপের মধ্যে চলছে আধিপত্য। তারা বলেন, সরকারিভাবে ইনানী বিচের সার্বিক উন্নয়ন ও দৃশ্যমান পরিকল্পনা হাতে নেওয়া না হলে এখানকার পর্যটন পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে। যেহেতু পর্যটন এলাকার জায়গা অতি মূল্যবান তাই এখানকার জায়গা দখল করতে প্রভাবশালীরা মুখিয়ে আছে। বিচের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা করছে একটি অসাধু গোষ্ঠী।

ইনানী বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোছন জানান, ইনানী বিচে বর্তমানে যেসব পর্যটক আসছে তাদের সুবিধার্থে গাড়ি পার্কিং, চেঞ্জিং রুম ও গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন একটি প্রকল্প হাতে নিলেও ঐ প্রকল্প দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে পর্যটকদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ইনানী বিচের মধ্যস্থলে একটি মাশরুম মার্কেট নির্মাণের জন্য তত্কালীন প্রশাসন ৫০ জন ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১৭ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে জন প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে সেলামি নিয়ে আগের দোকানপাটগুলো উচ্ছেদ করে। কিন্তু মাশরুম মার্কেট এ পর্যন্তও নির্মিত হয়নি। ফলে আধিপত্য বিস্তার করে যে যেখানে পারে সেখানেই দোকানপাট নির্মাণ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইনানী বিচ পরিদর্শন করে অবৈধভাবে যত্রতত্র নির্মিত দোকানপাট নিজ উদ্যোগে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ইনানী বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইনানীকে দেশের একটি দৃশ্যমান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার পূর্বনির্ধারিত একটি প্রকল্প নিয়েছে। ঐ প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ইনানীতে সরকারি ছাড়া বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মান না করার জন্য নির্দেশের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইনানী বিচে যেসব কাঁচা স্থাপনা ও মুদি দোকানপাট রয়েছে সেগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যদি নিজেরাই তাদের স্থাপনা না সরায় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ঐসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।