বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়াতে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৪

মুদ্রানীতি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশের পুঁজি বাজারসহ বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্বিক অর্থ ও ঋণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নীতিতে সুদহারে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মনিটারি পলিসি কমিটির ৪৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সভাপতিত্ব করেন।

গত জুলাই মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এখন থেকে বছরে একবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হবে। জুলাই মাসেই পুরো বছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার কথা বলা হয়। আর প্রয়োজনে বছরের মাঝেও মুদ্রানীতি পরিবর্তন করা হবে। এর আগে জুলাই ও জানুয়ারিতে ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতো।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে নিট বৈদেশিক সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকবহির্ভূত খাত (প্রধানত সঞ্চয়পত্র) হতে সরকারের ঋণ সংগ্রহের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের চলমান মুদ্রা ও ঋণ কর্মসূচিতে সরকারি খাতে গৃহীত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। বেসরকারি খাতে গৃহীত ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা জুন ২০২০ শেষে ইতিপূর্বে প্রক্ষেপিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১৩ শতাংশে পুনঃ নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও অতিসম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উত্পাদন প্রবৃদ্ধির শ্লথ গতি অব্যাহত থাকায় জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেবা খাতের শেয়ার বেশি হওয়ায় এবং মূলত রেমিট্যান্সের অন্তর্মুখী প্রবাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সূত্রে চলতি অর্থবছরে এ খাতের পারফরম্যান্স উত্সাহব্যাঞ্জক ছিল। এতে সার্বিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মুদ্রানীতিতে প্রক্ষেপিত ৮ দশমিক ২ শতাংশের কাছাকাছিই থাকবে বলে সভা আশা প্রকাশ করে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্যেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি থাকায় গড় সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতির ফলে অর্থবছর শেষে তা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিই থাকবে বলে ধারণা করা হয়।

রপ্তানি আয় এবং আমদানি ব্যয় হ্রাস পেলেও প্রবাস আয় প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সূত্রে রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবৃদ্ধির কারণে জুলাই-নভেম্বর ২০১৯ সময়কালে চলতি হিসাব ও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়কালের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। সরকারের নগদ প্রণোদনা নীতি বিদ্যমান থাকায় রেমিট্যান্সের জোরালো প্রবৃদ্ধি নিকট ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সভায় আশা প্রকাশ করা হয়। সরকার কর্তৃক এরই মধ্যে রপ্তানিকারকদের জন্য এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড হতে গৃহীত ঋণের সুদহার ১০০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছর শেষে ধনাত্মক হওয়ার প্রত্যাশা  ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া সরকারের গৃহীত অবকাঠামোগত বড়ো বড়ো প্রকল্প বাস্তবায়নের সূত্রে বৈদেশিক ঋণের অন্তঃপ্রবাহ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সূত্রে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকায় চলতি অর্থবছর শেষে সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে প্রায় ৪১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মুদ্রা ও ঋণ কর্মসূচিতে ব্যাংকিং খাতে নিট বৈদেশিক সম্পদের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি করা সমীচীন হবে বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।