জলবায়ু কন্যা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০২

তৌহিদ আজিজ

 

গ্রেটা থানবার্গ। ১৭ বছরের এ সুইডিশ কিশোরী বিশ্বব্যাপী এখন ‘জলবায়ু কন্যা’ বলে পরিচিত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে স্কুল জীবনের গণ্ডি শেষ করার আগেই বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এতো অল্প বয়সে তার এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেউ কেউ সমালোচনা করতেও ভুলেনি। তাদের বক্তব্য, স্কুলের পড়াশুনা বাদ দিয়ে এসব  কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এক ধরনের বাড়াবাড়ি। আবার কারো কারো মতে, যে কাজ বিশ্ব নেতারা করতে পারছেন না তা যদি এই কিশোরী আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে সচেতন করে তুলতে পারেন তাহলে এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।

প্রথমদিকে তার এই আন্দোলন অনেকে স্বাভাবিকভাবে না দেখলেও এখন সে বিশ্বের কাছে এক সংগ্রামের প্রতীক। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছি, সেই বিষয়টিকে আবারও সে নতুন করে দেখিয়ে দিল একটু সচেতন হলে এ সংকট অনেকটা সমাধান করা যেতে পারে। সে সবাইকে বুঝাতে চেয়েছে, আমাদের একটু সচেতনতায় আমরা এ পৃথিবীকে একটি বাসযোগ্য স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার এই সাহসী ভূমিকার কারণে সে গত বছর টাইমসের ‘পারসন অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়। ১৯২৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনে এই প্রথম এতো অল্প বয়সি কেউ এ সম্মানজনক সেরা ব্যক্তিত্ব হলো। সম্প্রতি আবারও সে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ববাসীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সোচ্চার হয়। সুইজারল্যান্ডের লুসান শহরে এই প্রতিবাদে সেদিন তার সঙ্গে শামিল হয় হাজার হাজার মানুষ। সামনে দাভোসে শীর্ষ সম্মেলনের আগে সবাইকে ফের সচেতন করতেই তার এই সমাবেশ। গ্রেটার একটাই দাবি, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ব্যাবসায়িক নেতারা যেন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এর আগে সে ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ নামে একটি জোরালো আন্দোলন করে। এতে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক ও সরকারপ্রধানদের ব্যর্থতার সমালোচনা করা হয়। এবারে লুসানের বিক্ষোভে সে বলে, ‘আমরা নতুন বছরে এখন পা রেখেছি। শুধু তাই নয়, নতুন দশকেও আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা আশা করছি দাভোসের সম্মেলনে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।’ সে বলে, প্রতিবছরই ঘটা করে পরিবেশ সংক্রান্ত নানা সম্মেলন হয় কিন্তু বাস্তবে এর কোনো ফল আমরা পাই না। ধনী দেশগুলো বিভিন্ন আশার কথামালা দিলেও বাস্তবে এর কোনো খোঁজ মেলে না।’

এদিন বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আপনারা জেগে উঠুন, দেখুন জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া। এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে এতোটা দেরি হয়নি যাতে করে আমরা এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারি।’ বিক্ষোভে নিজোকি এনজোরজে নামে কেনিয়ার একজন অধিকার কর্মী বলেন, ‘আমরা সংঘবদ্ধ হয়েছি এ সংকট মোকাবিলায়। আগামী সপ্তাহে আরো ২০টি দেশে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমরা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, আমাদের আর কালক্ষেপণের সময় নেই।’