মাত্র কয়েকটি ড্রোনের কারণে ব্রিটেনের অত্যন্ত ব্যস্ত একটি বিমানবন্দর দু’দিন ধরে বন্ধ ছিল। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে বাতিল করা হয়েছিল শত শত ফ্লাইট। হাজার হাজার যাত্রীকে তাদের ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজ শনিবার থেকে বিমানবন্দরটি সচল হওয়ার কথা থাকলেও আকস্মিক গতকাল ফের বিমানের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। বিমানবন্দরের আকাশে আরও একটি ড্রোনের দেখা পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে আজ পুরোপুরি সচল হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি’র
স্থানীয় সময় বুধবার গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ওপর প্রথম একটি ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছিল। এরপর দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। দু’দিন ধরে সেখানে কয়েকটি ড্রোনের রহস্যজনক ওড়াওড়ি ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী তলব করা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কে বা কারা এই ড্রোন ওড়াচ্ছিল সেই রহস্য ভেদ করতে পারেনি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তবে পুলিশ বলছে, ড্রোন পরিচালনাকারী একজন পরিবেশবাদী হতে পারেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ফের ফ্লাইট স্থগিত করার কথা জানান বিমানবন্দরের মুখপাত্র।। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন একটি ড্রোন আকাশে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, অনেক বিমান আকাশে উড়লেও অবতরণ করতে পারছে না।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, ৮৩৭টি ফ্লাইট পূর্বনির্ধারিত থাকলেও সেগুলোর কোনোটি বাতিল করা হয় কিংবা স্থগিত করা হয়। প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। মোট ১৫৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। গত দু’দিন ধরেই বিমানবন্দরে কোনো বিমান ওড়েনি কিংবা নামেনি। এর ফলে কয়েক হাজার যাত্রীকে বিমানবন্দরেই রাত কাটাতে হয়। এদের মধ্যে অনেক যাত্রী ছিলেন যারা আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে রওনা হয়েছিলেন। কেউ মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন এবং কেউ বা বড়দিন উপলক্ষে স্বজনদের কাছে যাচ্ছিলেন। ব্রিটিশ পরিবহনমন্ত্রী ক্রিস গ্রেলিং বলেছেন, ড্রোনের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের যোগসাজসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
