আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৫

আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতারা আগামীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেবে, আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে আমরা যখন থাকব না, এরাই আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমার কষ্ট হয় যখন আমার চোখের সামনে এরা (আবদুল মান্নান) চলে যায়, সেটা সত্যিই অনেক কষ্টের ও বেদনার। আমার হাতে গড়া ছাত্রনেতাদের এভাবে বিদায় নেওয়াটা দুঃখজনক। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সদ্য প্রয়াত আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন  চৌধুরী। আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। প্রয়াত সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর চলতি সংসদের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে রেওয়াজ অনুযায়ী স্পিকার সংসদ অধিবেশনের সব কার্যক্রম স্থগিত রেখে আজ সোমবার বিকাল সোয়া ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য কৃষিবিদ আবদুল মান্নানের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবদুল মান্নানের মতো মেধাবী ও দক্ষ ছাত্রনেতাদের চলে যাওয়া শুধু দলের জন্য নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। প্রতিটা ক্ষেত্রে আবদুল মান্নান অত্যন্ত দক্ষ ও মেধাবী ছিল। ছাত্রজীবন থেকে আইয়ুব, জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন।  তিনি আবদুল মান্নানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে যেসব তরুণ নেতৃত্ব সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম আবদুল মান্নান।

আলোচনায় আরো অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আবদুর রাজ্জাক,  ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, শাজাহান খান, এ বি তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোসলেম উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, নজরুল ইসলাম বাবু, আনোয়ার আবেদীন খান ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা।

ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার ১০টি বিদ্যমান প্রকল্পের সঙ্গে আরো বেশকিছু প্রকল্পকে ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে (পিএমও) ‘ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প’ মনিটরিং কমিটির পঞ্চম সভায় সভাপতিত্বকালে আরো বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে কয়েকটি প্রকল্পকে ফাস্ট ট্র্যাক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি। কমিটির (ফাস্ট ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটি) আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বড়ো প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’

ই-পাসপোর্টের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ছবি

ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্টের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফটোগ্রাফ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ই-পাসপোর্ট প্রদান শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন জানান, ‘অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিপিআই) কর্তৃপক্ষ গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে তার ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ই-পাসপোর্টের জন্য একটি ডিভাইসে তার ডিজিটাল স্বাক্ষরও দেন। এ সময় ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২২ জানুয়ারি বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।