ফাঁসির আসামিকে জাপার যুগ্মমহাসচিব করার কারণ কী

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৪৪

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ফাঁসির  পলাতক আসামি নূরুল ইসলাম দীপু কিভাবে জাতীয় পার্টির (জাপা) দুই নম্বর যুগ্ম মহাসচিব হলেন-এই আলোচনা এখন সর্বত্র। সবার প্রশ্ন, কী কারণে তাকে জাপার গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলো? এর নেপথ্য কারণ কী? সবাই বলছে, খুনিদের এভাবে রাজনৈতিক দলে ঠাঁই দিলে খুন করার প্রবণতা      বাড়তে থাকবে। খুনি দীপু জাপার পদ পাওয়ায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গাজীপুরসহ সারাদেশে নিন্দার ঝড় বইছে। দীপুকে জাপার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে আজ সোমবার টঙ্গীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ছাত্রলীগ।

জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত গত ২২ জুনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৬ জন যুগ্ম মহাসচিবের নাম রয়েছে, তাতে দীপুর নাম রয়েছে দুই নম্বরে। জাতীয় পার্টির (জাপা) অষ্টম জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

আহসান উল্লাহ মাস্টারকে ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। বহুল আলোচিত এই মামলায় দুই নম্বর আসামি দীপু। ওই সময় আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। ওই ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই মতিউর রহমান টঙ্গী থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই বছরের ১০ জুলাই ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের ২৮ অক্টোবর ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর পর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল রায় দেন। রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদন্ড  ও ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে আসামিরা। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে শুনানির জন্য। হাইকোর্ট দীর্ঘ শুনানি নিয়ে নুরুল ইসলাম সরকার, জাপা নেতা নূরুল ইসলাম দীপুসহ ৬ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাত জনের মৃত্যুদন্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাতজনকে খালাস দেয় হাইকোর্ট। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি বিচার চলাকালে কারাগারে মারা যায়।

গোয়েন্দা সূত্রে জনা গেছে বর্তমানে তিনি সুইডানে অবস্থান করছেন।

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের প্রেস সচিব ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলেন, দীপু আগে থেকেই জাপায় ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তাকে পদায়ন করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে দলের নেতাকর্মীদের কাছে সে খুব জনপ্রিয়। দলগতভাবে আমরা মনে করি, ওই হত্যার ঘটনায় দীপু দায়ী নয়। সে পরিস্থিতির শিকার।

আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, জাতীয় পার্টিকে (জাপা) আগে স্বৈরাচারী দল বলা হতো। বর্তমানে তারা সেই অবস্থা থেকে সরে এসেছে বলে জানতাম। কিন্তু খুনি দীপুকে পদ দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, জাপা তার স্বৈরাচারী আচরণ বদলায়নি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। 

এদিকে গাজীপুর-২ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নুরুল ইসলাম দিপুকে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ওই প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানগরীর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে থেকে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সিটি করপোরেশন অঞ্চল-২ এর কার্যালয়ের সামনে থেকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বক্তব্য রাখেন: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল, আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল্লাহ সরকার, সামসুল হক খন্দকার. গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দিপ প্রমুখ।  প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, অবিলম্বে হত্যা মামলার আসামী নুরুল ইসলাম দীপুকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া না হয় তা হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।