উন্নয়নের রূপরেখা সবাই গ্রহণ করেছে :তাপস নারীবান্ধব ঢাকা গড়ে তুলব :আতিকুল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৫

নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আলোকিত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে গতকালও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান নৌকার দুই মেয়র প্রার্থী। নটর ডেম কলেজের সামনে নির্বাচনি প্রচারণাকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকার উন্নয়ন নিয়ে তার পাঁচ ধাপের রূপরেখা সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। প্রতিদিন জনগণের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা এবং উন্নত ঢাকা গড়ে তুলতে ৩০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাজধানীর কল্যাণপুরে নির্বাচনি গণসংযোগকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে কমান্ড সেন্টারের আওতায় নারীবান্ধব ঢাকা শহর গড়ে তুলব। এজন্য সিসি ক্যামেরা লাগাব। এতে টোটাল নেটওয়ার্কটা আমাদের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কমান্ড সেন্টারে চলে আসবে।’

ব্যারিস্টার তাপস গতকাল আমারবাগ এলাকায় ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। পরে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান। এ সময় তাপস বলেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড) বিদ্যমান রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখছি না। প্রতিটি এলাকায় তাদের (বিএনপির) যথেষ্ট পোস্টার রয়েছে। সবাই নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক স্মৃতিবিজড়িত আরামবাগ এলাকার স্মৃতিচারণ করে তাপস বলেন, তার দাদা আরামবাগে বাড়ি করেছেন। এখানে তার বাবা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি বেড়ে উঠেছেন। নিজেরও শৈশবের অনেক স্মৃতি আছে এখানে। এ এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। এখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। মহাপরিকল্পনায় এ এলাকা নিয়ে তার আলাদা পরিকল্পনা থাকবে।

সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা ভিড় করেন আরামবাগ এলাকায়। বেলা ১টার কিছুটা আগে সেখানে যান ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘আপনারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন। আপনাদের অনুরোধ করছি, আমাকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেন, আগামী পাঁচ বছর আমি আপনাদের সময় দেব। নিষ্ঠা-সততার সঙ্গে ঢাকাবাসীর জন্য কাজ করব। উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়। রাস্তাগুলো ছেড়ে দেবেন। নাগরিকদের ভোগান্তি যেন না হয়।’ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা মার্কা বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘ঢাকাবাসীর ঘরে ঘরে যাব। রাত পর্যন্ত আমাদের গণসংযোগ চলবে। যত বেশি গণসংযোগ করতে পারব, মানুষের দোরগোড়ায় যেতে পারব, মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছাতে পারব, তত বেশি ব্যবধান বৃদ্ধি পাবে। ঢাকাবাসীর দোরগোড়ায় সব সেবা পৌঁছে দিতেই এই নবসূচনা, নবযাত্রা। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তার পাঁচ ধাপের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।’ ভোটের কারণে এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে শেখ ফজলে নূর বলেন, ভোট পেছানোয় প্রচারের সময় বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের প্রতি সহানুভূতি জানাচ্ছি। আগে থেকেই এটি করা হলে ভালো হতো।

আতিকুল ইসলাম গতকাল কল্যাণপুর এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান। এ সময় আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচিত হলে নারীবান্ধব ঢাকা শহর গড়ে তুলব। এছাড়া মেয়র ও কাউন্সিলরদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমি ৯ মাস সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালন করেছি। ঢাকাকে একটি ডিজিটাল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য অনেক কিছু করেছি। তবে ৯ মাসের কাজে অনেক কিছুই দৃশ্যমান হয় না। আর তাই অনেক কাজ দেখাতে পারিনি। এই ৯ মাসের পরিকল্পনার মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার গড়ে তোলা। যেটি এরই মধ্যে গড়ে তুলেছি।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপদ, পরিষ্কার ও আলোকিত ঢাকা গড়তে এরই মধ্যে আমরা কমান্ড সেন্টারের কাজ শুরু করেছি। আগামী এক বছরের মধ্যে সব কিছুই কমান্ডার সেন্টারের অধীনে চলে আসবে। এছাড়াও আলোকিত ঢাকা নির্মাণে ৪২ হাজার লাইট লাগানো হবে। এই লাইটের কন্ট্রোল প্যানেলও কমান্ড সেন্টারের আওতায় চলে আসবে। ঢাকার কোথায় ময়লা পড়ে রয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কোথা থেকে ময়লা নেয়নি, কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে সব খবর চলে আসবে ডিএনসিসির কাছে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যদি নির্বাচিত হই তবে আমি ও আমার কাউন্সিলররা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। আমরা প্রত্যেক মাসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে জবাবদিহিতামূলক টাউন হল মিটিং করব এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হব। নির্বাচিত হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও নৌকার কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড লাগে না। নৌকার ব্যাকগ্রাউন্ড ও গিয়ার একটিই—সেটা হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার, নৌকার জোয়ার। নৌকায় যদি ভোট দেন তাহলে অবশ্যই নৌকা দেবে উন্নয়ন, নৌকা দেবে শান্তি, নৌকা দেবে শৃঙ্খলা।’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরাসরি কেউ যদি ট্যাক্স দিতে যায়, তাহলে অসাধু কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে নেগোসিয়েশন হয়। এই ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এত ঐ ফ্ল্যাটের ট্যাক্স এত টাকা। এগুলো চলবে না। চলতে দেওয়া হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে সবাই বাড়ির ট্যাক্স দেবেন। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে আর যেতে হবে না। এ ধরনের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে এ বন্দোবস্ত করা হবে।’ সরস্বতী পূজার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। তারা দেরিতে হলেও সরস্বতী পূজার বিষয়টিকে আমলে নিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে।’