চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল কুমিরা পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০০:১৮

চট্টগ্রাম বন্দরের নির্মাণাধীন বে-টার্মিনাল পতেঙ্গা থেকে কুমিরা পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী সভায় এই প্রস্তাব করা হবে বলে কমিটির প্রধান মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরবিক্রম জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার ছয় সদস্যের সংসদীয় কমিটি দেশের মেগা প্রকল্প বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

 মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম দেশের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বে-টার্মিনালের সীমানা আরো ৭/৮ কিলোমিটার  বাড়িয়ে করার পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। সংসদীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ নির্মাণাধীন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রকল্প পরিচালক মো. জাফর আলম পুরো প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাইকা মাতারবাড়ি এলাকায় কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ করতে গিয়ে  সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা খুঁজে পায়। তাদের প্রস্তাবের আলোকে কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য করা চ্যানেল সম্প্রসারণ করে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ফলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে ১৬ মিটার গভীরতার মাদার ভেসেল ভিড়ানোর উপযোগী বন্দর নির্মাণ সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দরে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কনটেইনারবাহী জাহাজ ভিড়তে পারবে। ১৮ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের ফলে ২০৪০ সালে পর্যায়ক্রমে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হবে বলে প্রকল্প পরিচালক জানান।

সংসদীয় কমিটির প্রধান মেজর (অব.) রফিক তার প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, বে-টার্মিনাল ও গভীর সমুদ্রে  যে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে তা কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না। তিনি বলেন, একটি আইল্যান্ডের মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরসহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ দেখে সবাই অভিভূত। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির যোগান দিতে দেশে নির্মাণাধীন বন্দরসমূহ আগামীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সংসদ সদস্য এম এ লতিফ মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে বে-টার্মিনাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবং পতেঙ্গা টার্মিনালকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে বলে জানান। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা, রনজিত কুমার, এস এম শাহজাদা ও ডা. শামিলউদ্দিন শিমুল এবং চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।