‘খেপ খেলে অন্তত ৫০০ গোল করেছি’

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২১:২৭

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের ম্যাচে স্ট্রাইকার মতিন মিয়ার জোড়া গোল বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে তুলেছে বাংলাদেশকে। দলের ভেতরে মতিন মিয়া এখন নায়কের ভূমিকায়। বাংলাদেশকে একটা বড়ো জয় এনে দিয়েও তার মতিনের কণ্ঠে বাড়তি উচ্ছ্বাস সেই। আফসোস আছে। তাকে বলা হয় ফুটবল খেলার আগে রংমিস্ত্রি ছিলেন। কাল দুপুরে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনার সময় বললেন, ‘আমি কখনোই রংমিস্ত্রি ছিলাম না। কখনো রংয়ের কাজও করিনি। আর যদি করতাম তাহলে মিথ্যা বলবো কেন।’ কি কাজ করতেন? মুখ খুললেন লঙ্কা বিজয়ের নায়ক। মতিন মিয়া একটানা বলে গেলেন তার জীবনের কিছু স্মৃতির কথা। ‘আমাদের বাড়ি সিলেটের ওসমানী নগর। আমরা চার বোন, তিন ভাই। মা মায়েরুন বেগম। আমার বাবা রফিক মিয়া দুবাইয়ে থাকতেন। আমি পড়ালেখা করেছি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। কারো কাছে ফুটবল খেলা শিখিনি। কারো কাছে ট্রেনিং করিনি। নিজে নিজে খেলা শিখেছি। খ্যাপ খেলে বেড়াতাম। কোথাও ট্রেনিং করার সুযোগও ছিল না আমার। সব সময় মাঠে-ঘাটে থাকতে থাকতে ফুটবলার হয়েছি। লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি। আমাকে যখন বলা হয় আমি রংমিস্ত্রি ছিলাম তখন এটা আমার খারাপ লাগে। যদি রংয়ের কাজ করতাম তাহলেও কথা ছিল—বললেন মতিন মিয়া।

খ্যাপ খেলেই যিনি ফুটবলার কতগুলো খ্যাপ খেলেছেন মতিন মিয়া ? সহজ সরল জবাব—৪০০ ম্যাচ খ্যাপ খেলেছি। অন্তত ৫০০ গোল করেছি।’ মতিন মিয়ার এমন তথ্য ভড়কে যাবার মতোই। ৪০০ ম্যাচ খেপ খেলা সহজ কথা নয়। ৫০০ গোলও সহজ কথা নয়। একজন পরিপূর্ণ ফুটবলারও এত ম্যাচ খেলেছে কি না কিংবা এত গোল করেছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে মতিন মিয়ার জবাব—আমি আরো বেশি ম্যাচ খেলেছি, আরো বেশি গোল করেছি। হিসাব নাই বলে সঠিকটা বলতে পারছি না।’ কত টাকা পাওয়া যেত খুেপ খেলে ? মতিন মিয়া বললেন, ‘১৫-২০ হাজার টাকা পেতাম। সিলেটের এমন কোনো গ্রাম নেই আমি খেলেনি।’

দেশের ফুটবলের বড়ো আসরে সুযোগ পাওয়ার পর এখন মতিন মিয়া খ্যাপ খেলা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানালেন। মতিন মিয়া বললেন,‘আমি ঢাকার ফুটবল না খেললে বুঝতাম না জীবনটা কত সুন্দর। এখন ক্লাব ফুটবল এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলায় আমি বুঝতে পারছি এটাই আসল লাইফ।’ অকপটে বললেন মতিন, ‘ফুটবল আমার ভালো লাগে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের রাতে লিভারপুল ও ম্যানইউর খেলা দেখে অনেক রাতে ঘুমিয়েছি।’

হিসাববিজ্ঞানে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সিলেটের মেয়ে সোনিয়া আক্তারকে বিয়ে করেছেন মতিন মিয়া।

গতকাল ছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছুটির দিন। কোথাও যাননি বসুন্ধরা কিংসের এই স্ট্রাইকার। সংবাদমাধ্যম তাকে নিয়ে বেশ ব্যস্ত। লঙ্কার বিপক্ষে যে দুটি গোল করেছেন মতিন মিয়া, তা ছিল ছবির মতোই। আন্তর্জাতিক ম্যাচে এক সঙ্গে জোড়া গোল। ছবির মতো সুন্দর গোল দেখেছেন দর্শক। লঙ্কান গোলকিপারকে কাটিয়ে দ্বিতীয় গোল করেছেন। স্ট্রাইকার সংকট জাতীয় দলে। নাবীব নেওয়াজ জীবন বারবার ব্যর্থ হলেও তাকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিকল্প স্ট্রাইকার রাখা হতো না। মতিন মিয়াকে বসিয়ে রাখা হতো। সুযোগ পেয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মতিন বললেন, ‘আরো ভালো গোল করতে চাই। আরো ভালো করতে হবে। সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।’