পাখি নিধন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ২২:২৬

ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদের জের

ইত্তেফাক রিপোর্ট

পাবনার সুজানগরে পাখি নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পাবনার ডিসি, এসপি, সুজানগর উপজেলার  ইউএনও ও থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ২০১২ এর ওপর প্রচারণা চালাতে তথ্য সচিবকে বলা হয়েছে।

রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘সুজানগরে অবাধে অতিথি পাখি নিধন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, পাবনার সুজানগরে অবাধে অতিথি পাখি নিধন করা হচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারিসহ কিছু সৌখিন শিকারি এই অনৈতিক কাজ করছে। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে রাজহাঁস, চখা, পানকৌড়ি, পাতিহাঁস ও কাজলাদিঘিসহ বিভিন্ন জাতের অতিথি পাখি একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিলসহ পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছরও শীতের শুরুতেই ঐ সকল পাখি গাজনার বিল ও পদ্মার চরাঞ্চলসহ আশপাশের বিলে আশ্রয় নিয়েছে। বিলপাড়ের শারীরভিটা গ্রামের বাসিন্দা বাদশা শেখ জানান, মাঝেমধ্যেই শিকারিরা বিলে কারেন্ট জালের ফাঁদ পেতে নির্বিঘ্নে অতিথি পাখি শিকার করছে। শিকারিরা কখনো দিনে আবার কখনো রাতে পাখি শিকার করে স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করে থাকেন। সেই সঙ্গে সৌখিন শিকারিরাও মাঝেমধ্যে তাদের বৈধ বন্দুক দিয়ে বিল ও চরাঞ্চল থেকে অতিথি পাখি শিকার করছে। সৌখিন শিকারিরা অতিথি পাখির পাশাপাশি গ্রামগঞ্জে ঘুরে দেশি পাখিও শিকার করে থাকে।’

প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুননাহার সিদ্দিকা। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট পাখি নিধন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। এছাড়া অতিথি পাখি নিধন কেন বেআইনি হবে না এবং পাখি নিধন বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ নয় এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।