ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) বড়ো ধরনের রদবদল হয়েছে। সরে দাঁড়িয়েছেন অমিত শাহ। বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন জগত্ প্রকাশ (জেপি) নাড্ডা। গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি সভাপতি হিসেবে নাড্ডার নাম ঘোষণা করা হয়। বিজেপি সভাপতি হিসেবে কেবল নাড্ডাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এত দিন বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে ছিলেন নাড্ডা। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ইন্ডিয়ান টাইমসের
দ্বিতীয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় অমিত শাহের যোগ দেওয়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল বিজেপির নতুন সভাপতি কে হবেন, তা নিয়ে। এত দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দলের দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন অমিত শাহ। তার কাছ থেকে নাড্ডার কাঁধে দলের দায়িত্ব তুলে দিতে গতকাল নির্বাচন প্রক্রিয়ার সম্পাদন করে বিজেপি। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাড্ডা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। একটি সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি হিসেবে নাড্ডার নাম প্রস্তাব করেন দলের সংসদীয় বোর্ডের সাবেক প্রধানরা অর্থাত্ অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নীতিন গডকড়ি। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানান বিজেপির জাতীয় পরিষদের সদস্যরা।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছিলেন নাড্ডা। আরএসএসের কাছের লোক বলে পরিচিত নাড্ডাকে বিজেপি সভাপতি হিসেবে অমিত শাহের প্রথম পছন্দ ছিল। দলের সাধারণ সভাপতি বি এল সন্তোষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন নাড্ডা। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে তিনবারের বিধায়ক ছিলেন জে পি নাড্ডা। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মন্ত্রীও ছিলেন। ২০০৮-২০১০ সাল পর্যন্ত হিমাচল প্রদেশে স্বাস্থ্য, বন, পরিবেশ ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৪ সালে প্রথম নরেন্দ্র মোদির সরকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নাড্ডা। গত নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে দলের দায়িত্বে পালন করা নাড্ডাকে বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল গত বছর।
