খুন করে স্বামীর দেহের পাশেই রাত কাটান স্ত্রী

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:২৬

গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে প্রাক্তন স্বামীকে খুন করে মৃতদেহের সঙ্গে রাত কাটান ৪০ বছর বয়সী এক নারী। এরপর ভোরে চুপচাপ দরজা বাইরে থেকে চাপা দিয়ে রেখে যান নিজ বাড়িতে। সেখান থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে এয়ারপোর্টে নিজের অফিসে যান ওই নারী। 

ঘটনাটি ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার। ৫২ বছর বয়সী প্রতুল চক্রবর্তী নামের একজনের খুনের তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার হয় প্রতুলের। চার দিন আগেই পানিহাটির ওই বাসাটি ভাড়া নেন তিনি। বাড়ির মালিককে প্রতুল জানিয়েছিলেন, একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থায় বড় পদে কাজ করেন তিনি। সোদপুরে ওই সংস্থার একটি শাখা অফিস খোলা হবে। তাই কিছু দিন পানিহাটিতেই থাকবেন।

বাড়ির মালিক শ্যামল মজুমদার শুক্রবার বলেন, প্রতুল একাই থাকতেন ওই ব্যক্তি। হোম ডেলিভারিতে খাবার আসত। বৃহস্পতিবার খাবার দিতে গিয়ে ডেলিভারি বয় প্রতুলের নিথর মরদেহ বিছানায় দেখতে পায়। গলায় শাড়ির ফাঁস। তদন্তে নেমে প্রথমেই পুলিশ আটক করে ওই ডেলিভারি বয়কে। 

পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে নারীদের ব্যবহৃত রুমাল ও স্থানীয় একটি হোটেলের বিল পায়। এরপর খুনের ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্ত দল বৃহস্পতিবার বিকেলেই ওই হোটেলে যায়। হোটেলে জমা দেয়া একটি পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে পুলিশ অদিতি চক্রবর্তীকে খুঁজে পায়। পুলিশি জেরায় শেষ পর্যন্ত অদিতি প্রতুলকে খুনের কথা স্বীকার করেন। 

পুলিশকে অদিতি জানান, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর বছর দশেক আগে তার সঙ্গে প্রতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাঝে মাঝে দুজন একসঙ্গে থাকতেন। বাকি সময় প্রতুল নিজ কর্মস্থলেই থাকতেন। অদিতির প্রথম স্বামীর ঘরে একটি ছেলে ও প্রতুলের ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। 

আরো পড়ুন: গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

কলহের জেরে সম্প্রতি দুজনের ডিভোর্স হয়। সেই থেকে আলাদা থাকেন তারা। কয়েকদিন আগে ওই হোটেলে অদিতিকে ডেকেছিলেন প্রতুল। সেখানে তাদের মধ্যে টাকাপয়সা সংক্রান্ত কিছু কথা হয়। এরপর প্রতুল বাসায় ডাকেন অদিতিকে। সেখানে গিয়ে মাতাল অবস্থায় সেখানে প্রতুলকে খুন করেন বলে জানান অদিতি। স্বামীর অত্যাচারের প্রতিশোধ হিসেবেই তাকে খুন করেন বলে জানান তিনি।  

শুক্রবার স্থানীয় আদালতে নেয়া হলে আদালত অদিতিকে পাঁচ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। 

ইত্তেফাক/কেআই