জয়পুরহাট চিনিকলের বর্জ্যেই কালো হচ্ছে তুলসীগঙ্গার পানি!

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০২

জয়পুরহাট চিনিকলের সালফার ও অন্যান্য দ্রব্য মিশ্রিত পানিতেই তুলশীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত হয়ে কালচে রং ধারণ করেছে। এ নদীর পানি তীব্র অ্যাসিডিক হয়ে পড়েছে। এতে অ্যামোনিয়া গ্যাস ও অতি উচ্চমাত্রার অপদ্রব্যের উপস্থিতি মিলেছে। তুলশীগঙ্গা নদীর পানি হঠাত্ কালচে রং ধারণের কারণ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিষয়টি নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘কালচে বর্ণ ধারণ করেছে তুলশীগঙ্গা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন আকন্দ এমন অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেননি। তিনি বলছেন, যাচাই-বাছাই না করে নদী দূষণের জন্য চিনিকলকে দায়ী করা ঠিক হবে না। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তখন আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকিউল ইসলাম ‘কালচে বর্ণ ধারণ করেছে তুলশীগঙ্গা’ এর কারণ জানতে ও তদন্ত করতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। ঐ দুই কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জয়পুরহাট চিনিকলের পানিতেই তুলশীগঙ্গা নদীর পানি দূষিত ও কালচে রং ধারণ করেছে। আমরা যা বলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনামুখি সেতুর প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পৌরসভার মুকিমপুর মৌজার তুলশীগঙ্গা নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর তা স্বাভাবিক বলে প্রতীয়মান হয়। সোনামুখি সেতুর নিচে তুলশীগঙ্গা নদীর সঙ্গে শ্রী-খালের মূল সংযোগস্থলের ১০০ ফুট পূর্বে পানির নমুনা সংগ্রহ করে কিঞ্চিত কালচে ও দুর্গন্ধময় পরিলক্ষিত হয়েছে। সংগৃহীত পানির নমুনা পরীক্ষা করে তীব্র মাত্রায় এসিড ও অ্যামোনিয়া গ্যাস মিলেছে। এছাড়া পানিতে অতিমাত্রায় অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান মিলেছে। যার পরিমাণ প্রতি লিটার পানিতে ৬৯০ মিলিগ্রাম। জয়পুরহাট চিনিকলের সালফার ও অন্যান্য অপদ্রব্যে মিশ্রিত পানি শ্রী-খালের মধ্য দিয়ে তুলশীগঙ্গা নদীতে পড়ায় নদীর পানি কালচে ও দূষিত হয়েছে। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকিউল ইসলাম বলেন, আমি তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদনটি জেলায় পাঠানো হয়েছে।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের পর জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ার হোসেন আকন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এই পানি আমাদের চিনিকলের পানি নয়। এটা অন্য কোনো চালকলের পানি তুলসিগঙ্গায় পড়তে পারে। যদি আমাদের চিনিকলের পানি হয় তবে এ ব্যাপারে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’