ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র ৮ দিন বাকি। তাই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় সরগরম রাজধানী। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। আর পথসভা, লিফলেট বিতরণেরও সরব প্রার্থীসহ কর্মী-সমর্থকরা। প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবারও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন তারা; দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ব্যবসায়ীবান্ধব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় গতানুগতিক পোস্টারের বদলে ডিজিটাল প্রচারণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি যদি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হই তাহলে শহরে আর যত্রতত্র পোস্টার লাগাতে দেব না।
গতকাল দিনভর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দুই মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলামের পক্ষে ভোট চেয়েছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। দুই সিটিতে ১৪ দলের পৃথক দুটি টিম গতকাল ৬টি ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান। উত্তর সিটিতে ১৪ দলের প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন জাতীয় পার্টির-জেপি সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। দক্ষিণ সিটিতে প্রচারণা ও গণসংযোগের অংশ হিসেবে খিলগাঁও এলাকায় পথসভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির-জেপি প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের অসিত বরণ রায়, বাসদের রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ।
প্রচারণায় তাপস: দুপুরে পুরান ঢাকার কারা কনভেনশন হলে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের ‘ব্যবসায়ী সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ভোটে জিততে অলীক কোনো স্বপ্ন দেখানোর পক্ষপাতি আমি নই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য দীর্ঘ সময় আর অপেক্ষা করতে হবে না। ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্সের সমাধান করা হবে। সিটি করপোরেশনে আমরা একটি হেল্প ডেস্ক করব। ব্যবসায়ীদের সমস্যা দৈনন্দিন ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। অনলাইন এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও সিটি করপোরেশনের সেবা প্রদান করা হবে।
আতিকের গণসংযোগ: রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেন আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি একজন প্রার্থী হিসেবে বলতে চাই, ইসি আমাদেরকে বলে দিক ভবিষ্যতে আপনারা এ ধরনের পোস্টার থেকে বিরত থাকুন। আসুন আমরা সবাই ডিজিটাল ক্যাম্পেইন করি, এভাবে কাগজের পোস্টার যেন না লাগাই, ইসিও এমন নির্দেশনা দিক। জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত হই তাহলে নগরের আর যত্রতত্র পোস্টার লাগাতে দেব না। নির্দিষ্ট কিছু জায়গা করে দেওয়া হবে সেখানেই শুধু পোস্টার লাগানো যাবে। আমরা চাই সুন্দর নগরী, বাসযোগ্য নগরী।
