প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো অপরাধের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই শরিয়ত বয়াতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বিশেষ অপরাধে সম্পৃক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইন অনুযায়ীই তার অপরাধের বিচার হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদের সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাউল গান বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান করে নিয়েছে, তাই বাউল শিল্পীরা এমন কোনো কাজ যেন না করেন যার জন্য তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন চৌধুরী।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বর্তমান সরকার জনগণের মধ্যে এই উপলব্ধি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যে, সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং কোনো অপরাধীই অপরাধ করে পার পাবে না। তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে যেমন বহুমাত্রিক অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি প্রযুক্তি ব্যবহার করেই অপরাধীদের আইনের জালে ধরে ফেলা হচ্ছে। তিনি বলেন, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার সুনিশ্চিত করা আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সংসদ নেতা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে এ দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে বা আশ্রয় গ্রহণ করে আছে তাদর ফিরিয়ে আনার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকারের উদ্যোগ ও গবেষণার ফলে মৌসুমি তরিতরকারি ও শাকসবজি সারা বছর উত্পাদন করা সম্ভব হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে তরিতরকারি রফতানি করা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। আগামীতে এই প্রক্রিয়ার আরো আধুনিকায়ন করা হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকের পণ্য উত্পাদন, বিক্রি ও বাজারজাত করার পদক্ষেপ বিদ্যমান রয়েছে। যাতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। পুরোনো সমবায় আইনকে যুগোপযোগী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইসিটি মামলায় টাঙ্গাইলের বাউল শরিয়ত বয়াতির গ্রেফতার সংক্রান্ত জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রশ্নকর্তা কী এমন কোনো গ্যারান্টি দিতে পারবেন—বাউল গান করছেন বলেই ঐ শিল্পী কোনো অপরাধে জড়িত নন। নিশ্চয়ই তিনি এমন কোনো অপরাধ করেছেন, যার জন্য তার বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে রাজবাড়ীর পাংশার বাউল সম্প্রদায়ের চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সামরিক শাসকদের মতো এখনো যদি চুল কেটে দেওয়ার মতো কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সরকার সেটা দেখবে। কারণ অহেতুক চুলকাটা বা বাউলদের প্রতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়। কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানের বাউল সম্প্রদায়ের কল্যাণে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন তিনি।
