মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
জনপ্রতিনিধি নির্বাচন
‘আক্কাস ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’, ‘আক্কাস ভাইয়ের দুই নয়ন এলাবাসীর উন্নয়ন’—এমন স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করলাম। জানবাজি রেখে কাজ করলাম। আক্কাস ভাই নির্বাচিত হলো। তারপর কিছু দিনের মধ্যেই তিনি অন্যের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে এলেন। রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ গম তার বাসায় ধরা পড়ল। আগে দেখলে কুশল বিনিময় করতেন। এখন চিনেনই না। দেখলে সটকে পড়েন। যেন ভূত দেখেছেন।
প্রেমিকা নির্বাচন
প্রেম করার জন্য কালো মেয়েরা ভালো। অনেকেরই এমন মত। আমার হলো উল্টো। ফর্সা মেয়ে কণাকে ভালোবাসি। প্রতিদিন সে চিকেন ফ্রাই খেতে চায়। তাও দুই-তিন পিস। ফুচকা, চটপটি একা খায় না, দলবল নিয়ে খায়। বিল দিই আমি। কলিজা ফেটে যায়। টিউশনির জমানো টাকা, বাড়ি থেকে পাঠানো মা-বাবার টাকা—তার মন ভরতেই খরচ হয়ে যায়। শ্যামবর্ণ মুনা। আমায় প্রচণ্ড ভালোবাসত। পাত্তাই দিতাম না। যখন আর চিকেন ফ্রাই খাওয়াতে পারি না, গিফট কিনে দিতে দেরি হয়, তখন কণার আমাকে আর ভালো লাগে না। অন্যের হাত ধরে সে চলে গেল। মুনার বিয়ে হয়ে গেল। বোকার মতো ভুল প্রেমিকা নির্বাচনের খেসারত দিলাম আমি।
চাকরি নির্বাচন
পদের নাম পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট। বসের সিডিউল ঠিক রাখার কাজ। ইন্টারভিউতে এমনটাই বলেছিল তারা। মহিলা বস। খুশিই হয়েছিলাম। কয়েক দিন ভালোই কাটল। একদিন বস হাতে লিস্ট ধরিয়ে দিলেন। বাজার করে বাসায় পৌঁছে দিতে হবে। বস মানুষ, ‘না’ও বলতে পারি না। আরেক দিন তার ছোটখাটো পোশাক কিনে আনার লিস্ট দিলেন। আরেক দিন বললেন, ‘যাও তো চা নিয়ে আস।’ তার বাসার টুকটাক বাজার আমাকেই করে দিতে হয়। ‘চুরিচামারি করো না তো’—প্রায়ই এমন কথা শুনতে হয়। মহিলা বস। কত্ত ভদ্র, নরমশরম হবে। হলো উল্টো। সাক্ষাত জল্লাদ!
বউ নির্বাচন
‘বংশীয় ঘরের মেয়ে। মা বাবা শিক্ষিত। দাদা পীর ছিলেন। মেয়ে শ্যামবর্ণ, মোটা হলেই বা কী!’ ঘটকের মনভোলানো কথা। অবশেষে বিয়েতে রাজি হলাম।
বাসর রাতের ঘটনা। ‘টাকা-পয়সা যা আয় করো, সব আমার হাতে তুলে দেবে। মা-বাবাকে দেশের বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। বুড়োবুড়ি আমার সহ্য হয় না।’ বউয়ের কর্কশ মুখে কথাগুলো শুনলাম। প্রথম রাতেই যেন ব্যবহারে বংশের পরিচয় পেলাম।
বানারীপাড়া, বরিশাল
