নাগরিকত্ব আইনে স্থগিতাদেশ দেয়নি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০১:০০

ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের ওপর এখন কোনো স্থগিতাদেশ দিতে তারা যে রাজি নয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ঐ আইনের বিরুদ্ধে যে শতাধিক আবেদন আদালতে জমা পড়েছে, তার শুনানিতে এদিন সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের বক্তব্য জানাতেও চার সপ্তাহের সময় দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবডের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ গতকাল জানিয়েছে, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের বক্তব্য শোনার আগে তারা কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়ার কথা বিবেচনাই করবে না। গত মাসে ভারতের পার্লামেন্টে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সারা দেশ প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অ্যাক্টিভিস্ট আলাদা আলাদাভাবে যেসব আবেদন করেছিলেন, তার ১৪৪টিকে একত্রিত করে সুপ্রিম কোর্টে ঐ মামলার শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল নাগরিকত্ব আইনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার এবং ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রারের (এনপিআর) কাজ আপাতত বন্ধ রাখার দাবি জানান। তবে সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল জানান, আবেদনগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০টির প্রতিলিপি সরকারকে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো পড়ে বক্তব্য জানানোর জন্য আরো সময়ের দরকার।

ভারতের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে সে দেশের সংখ্যালঘুরা যদি ভারতে চলে আসেন, তাহলে তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবেন। তবে হিন্দু-বৌদ্ধ-শিখ-খ্রিষ্টানরা এই সুবিধা পেলেও মুসলিমরা এই আইনের আওতায় পড়ছেন না। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান এনে এই আইন ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকেই লঙ্ঘন করছে, এই যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে বহু আবেদন জমা পড়ে। এই আবেদনকারীদের মধ্যে কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিএম, সিপিআইয়ের মতো বিরোধী দল যেমন আছে, তেমনি অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) মতো সংগঠনও আছে।

এ ছাড়া কেরালার রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ, এআইএমআইএম নেতা ও হায়দ্রাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, তৃণমূলের এমপি মহুয়া মৈত্র, তামিল অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসনও আবেদনকারীর মধ্যে রয়েছেন। এখন যে তিন সদস্যের বেঞ্চ আবেদনগুলো শুনছে, তাতে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও রয়েছেন বিচারপিতি এস আবদুল নাজির ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। তবে সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে, এই বেঞ্চের আকার বর্ধিত করে পাঁচ সদস্যের করা হবে এবং সেই বর্ধিত বেঞ্চ এই শ দেড়েক আবেদনের ওপর একটি অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করবে। এদিকে মঙ্গলবার লখনৌতে এক সমাবেশে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, বিক্ষোভকারীরা যত খুশি প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু সরকার কিছুতেই এই আইন প্রত্যাহার করবে না।