‘বর্তমানে যেকোনো সংগঠনের চেয়ে ফিল্ম ক্লাব তারকাসমৃদ্ধ’

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৪০

দীর্ঘ দেড়যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যারিয়ারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিনেতা অমিত হাসান। অভিনয়ে নায়ক-খলনায়কসহ ভার্সেটাইল একাধিক চরিত্রে নিজের মুন্সিয়ানায় মুগ্ধ করেছেন সকলকে। সাংগঠনিকভাবে শিল্পী সমিতির নেতৃত্ব দিয়েছেন দীর্ঘসময়। বর্তমানে ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কথা বলেছেন নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

কেমন আছেন? চলচ্চিত্রের একাধিক সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ফিল্ম ক্লাবের সভাপতি হলেন। এত সঙ্কটের এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার ফিল্ম ক্লাব কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আপনি মনে করেন?

শুধুমাত্র একটি সংগঠন বা আমার একার পক্ষে চলচ্চিত্রের এই সঙ্কট সমাধান সম্ভব নয়। এ কারণে আমরা একটা ভূমিকা রাখতে পারি এবং সেই কাজটি করার জন্যই কিন্তু আমরা এখন ফিল্ম ক্লাবটিকে আরো বেশি সক্রিয় করছি। বর্তমানে যেকোনো সংগঠনের চেয়ে ফিল্ম ক্লাব তারকাসমৃদ্ধ। আমাদের ভেতরের এই সম্প্রীতিই আমাদের শক্তি।

 

কিন্তু সংগঠনগুলোর সদস্যদের ভেতরে পারস্পরিক সম্প্রীতি কেমন? কারা কারা শুভেচ্ছা জানালো আপনার এই নতুন নেতৃত্বকে?

প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতি থেকে শুরু করে সব ক’টি সংগঠনই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ফুল দিয়ে অফিসিয়ালি অভিনন্দন জানিয়েছে। ফোন করেছে অনেকে। অথচ দুঃখজনক ও অবাক করার মতো বিষয় হলেও সত্য যে, শিল্পী সমিতি থেকে কোনোরকম শুভেচ্ছা আমি বা আমরা বিজয়ী প্যানেলের কেউ পাইনি। অফিসিয়ালি তো অনেক দূরের ব্যাপার, একটি ফোন করেও শুভেচ্ছা জানানোর সৌজন্যতা তারা দেখায়নি।

 

কেন এত বৈরিতা? শিল্পীদের পারস্পরিক রেষারেষি বা এই দূরত্বের কথা শোনা যায় এখন অনেক। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

আমিও এর কোনো কারণ জানি না। আমি তো অনেকের সঙ্গেই অনেক প্যানেলে নির্বাচন করেছি। কই, কখনো তো এমন রেষারেষির কথা শুনিনি। আমি মান্নার বিপরীতে নির্বাচন করেছি। ডিপজল ভাইয়ের বিপরীতেও তো নির্বাচন করেছি। শাকিব-মিশা প্যানেলের বিপরীতে স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী হয়েছি। নির্বাচন শেষ হয়েছে আবার আমরা আগের মতো কাজ করেছি। এখন ডিপজল ভাই, মান্না বা শাকিব চাইলে তো পারতো যে, অমিত হাসান আমার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে, ওকে আর ফিল্মে নেবো না। এসব ঘটনা তো ঘটেনি।

 

এবারের নির্বাচনে মৌসুমীকে কেন একা নির্বাচন করতে হলো। আপনারা অনেকেই প্যানেল গড়ার কথা বলেও সরে এসেছে...

না, দেখুন আমি কিন্তু প্যানেল থেকে সরে আসিনি। বিষয়টা আমি ক্লিয়ার করি। প্রথমে প্ল্যান ছিল মৌসুমী সভাপতি ও আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করবো। পরে শুনি সাইমন হবে সেক্রেটারি। এ পর্যায়ে আমি আর প্যানেলে থাকিনি। কিন্তু রিয়াজ, ফেরদৌস দু’জনই কিন্তু মৌসুমীকে সামনে এগিয়ে কোনো এক অজানা কারণে দূরে সরে এসেছে। এটা কিন্তু উচিত হয়নি। আমার কথা হলো যে কারণেই হোক না কেন রিয়াজ-ফেরদৌসের এভাবে দূরে সরে আসা উচিত হয়নি। একইসঙ্গে মৌসুমীর সাহসিকতা ও একাগ্রতাকে আমি স্যালুট জানাবো। সে না দাঁড়ালে তো শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আমেজই থাকতো না।

 

নায়ক থেকে খলনায়ক হিসেবে এখন বেশ চাহিদাসম্পন্ন আপনি। বিষয়টা কেমন লাগে?

আমি এনজয় করি। ছোটবেলা থেকে উদীচী করতাম। সেখানকার নাট্য সম্পাদক ছিলাম আমি। নিজে একা একা পথ হেঁটে এতদূর। বাবা-মায়ের দোয়া আছে আমার সঙ্গে। চলচ্চিত্রকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছি। কোনো চরিত্রকে আমি খাটো করে দেখি না। এখনো কোথাও গেলে আমার দর্শকের ভিড় জমে। জীবনে এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী আছে বলুন। তাই কোনো নেতৃত্বের আসন আমাকে লোভাতুর করে তোলে না। অথচ কষ্ট পাই। আমার ফিল্ম ক্লাবের নির্বাচনে আমাকে ভোট না দেওয়ার জন্য শিল্পী সমিতির একজন সব ভোটারকে ফোন দিয়েছে। এই অপরাজনীতি করে কারো লাভ হয় না। বরং যে করে তার নিজেরই ক্ষতি হয়। আমি তার নাম মুখে আনতে চাই না।

 

এখনকার কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই—

অনেকগুলো কাজ করছি। আমি সেই সময় থেকে আজ অবধি একইভাবে ব্যস্ততা নিয়েই কাটাই। এছাড়া কাজের ভেতরে যেমন আমি স্বাচ্ছন্দ্য তেমনি ঘরেও আমি একইরকম সুখী আমার স্ত্রী আর দুই কন্যাকে নিয়ে।

 

নিজের প্রিয় সহকর্মী ৪ জনের নাম বলতে গেলে কাদের কথা বলবেন?

শাবনুর, মৌসুমী, পপি ও অরুণা বিশ্বাস।

 

ভালো লগ্নিকার পেলে এ সময়ে কাকে নিয়ে ছবি বানাতে চান?

বড় ইনভেস্টর পেলে শাকিব, বাপ্পী আর সাইমনকে নিয়ে ছবি করবো এবং আমি শাকিবের বিপরীতে অপু বিশ্বাসকেই রাখবো।

 

বলেন কী? সেটা কী করে সম্ভব?

প্রডিউসাররা সব পারে। আজ ভালোমানের প্রডিউসার নেই বলেই ইন্ডাস্ট্রিতে এই অবস্থা। ১০ জন দক্ষ প্রযোজক থাকলেই ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা বদলে দেওয়া সম্ভব।