স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তার পরও দেশের মানুষ কেন স্বাস্থ্যসচেতন নয়? জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের কাছে। ই-মেইল ও
টেলিফোনে পাঠকের দেওয়া প্রতিক্রিয়া
আজ প্রকাশ করা হলো
আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ডায়াবেটিস, কিডনি, উচ্চরক্তচাপ। এই তিনটি অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দেশে বেড়েই চলেছে। এছাড়াও ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের মতো অসংক্রমাক রোগ রয়েছে। এর মূলে রয়েছে সবকিছু ভেজাল, অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মানুবর্তিতা না মানা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ইত্যাদি। চলমান এ সমস্ত রোগের জন্য চাই দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চর ভৈরবী।
সুখী জীবনের জন্যে সুস্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই। শরীরচর্চার মাধ্যমে দেহ সুগঠিত হয়। লাভ করা যায় সুন্দর স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্যহীন ব্যক্তির সম্পদ কোনো কাজে আসে না, তার মেধার বিকশিত হয় না। বর্তমানে শরীর চর্চাকে দেহ ও মনের বিকাশ সাধনের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুস্থ দেহের মধ্যেই থাকে সুন্দর মন। ব্যায়ামের অনুশীলন, খেলাধুলা ইত্যাদি শরীরচর্চার মাধ্যম। শরীরচর্চার মধ্যে আছে সুখী ও সমৃদ্ধ জীবনের পূর্ভাবাস। শরীরচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দৈহিক সামর্থ্য ও শরীর গঠন ছাড়াও নেতৃত্ববোধ, আনুগত্য, দেশাত্ববোধ, ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রভৃতি অর্জন করতে পারে। আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক দৃঢ়তা, বিচারশক্তি প্রভৃতি গুণাবলী ও শরীরচর্চার মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
মো. জিল্লুর রহমান
সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা
সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। ছোটোবেলায় পাঠ্যসূচিতে উপদেশমূলক এই বাক্য পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানুষ আনন্দচিত্তে তার নিত্যদিনের সব কাজ করতে পারেন। কেননা শরীরের সঙ্গে মনের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে স্বাস্থ্য ভালো থাকা মানে মন ভালো থাকা। স্বাস্থ্য নিয়ে এসব বলার পেছনে কারণটা অবশ্য সহজেই অনুমেয়। কারণ গত বছর মানুষ ডেঙ্গু রোগ নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটিয়েছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এতে দেশের চিকিত্সা ব্যবস্থার চিত্রটাও ফুটে উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে। কারণ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে একজন জেলা সিভিল সার্জনসহ কয়েকজন ডাক্তার ও নার্সের মৃত্যুও হয়েছে। চিকিত্সকরা যখন নিরাপদ নন, তখন সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি সত্যিই ভাবনার বলেই মনে হয় আমার কাছে।
বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।
একটা দেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত নানা অনুষঙ্গ। এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিত্সা খাত। যদিও আমরা ভেবে দেখি না যে এটা আজ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতও। এ খাতের বার্ষিক টার্নওভার মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। এখানে কেবল দক্ষ এবং সুচিকিত্সকই নয়, প্রয়োজন বিভিন্ন পেশাদারকর্মী যাদের থাকবে আধুনিক শিক্ষা আর কাজের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা। পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত গবেষণা। আরো একটা পূর্বশর্ত থেকেই যায়, ওষুধের দাম ও মান নিয়ন্ত্রণ। প্রতিটি শর্ত সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলে, কোনো সন্দেহ নেই চিকিত্সা খাতে সাফল্য অর্জন নিশ্চিত করা যাবে। সেরা প্রতিষ্ঠান, সেরা গবেষণা, সেরা চিকিত্সক এবং এমনকি চিকিত্সাসেবা প্রদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রথা প্রচলনের মাধ্যমে উত্সাহিত করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হবে না। নাগরিকদের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতের মধ্যে আরো সমন্বয় প্রয়োজন। প্রয়োজন সকলে মিলে স্বাস্থ্যসেবাকে আরো সহজলভ্য করা, মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনা বলে মনে করি।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সুষ্ঠু পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। মানুষকে নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী ও ঋণদাতা সংস্থাগুলো সারাদেশে কাজ করছে। কিন্তু নির্মম সত্য হচ্ছে, আমাদের শহরাঞ্চলের পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। ঢাকার বেশির ভাগ পয়োবর্জ্য বুড়িগঙ্গা বা তুরাগ নদে গিয়ে পড়ে, যার ফলে পানি ও পরিবেশ দূষিত হয়ে নানাবিধ রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার লক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশের টয়লেটব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
অমিত বণিক
উত্তরা, ঢাকা।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ (নিপোট)। জরিপে বলা হয়েছে—দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ ১ কোটি ১০ লাখ। উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত নারী-পুরুষ ২ কোটি ৯৯ লাখ। কি ভয়াবহ বিষয় দুটি। এতে করে অনুমান করা যায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আমরা কতটা ভুগছি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে নীতিমালা খসড়া হলেও অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা।
সাধারণত আমরা প্রতিদিন রেস্টুরেন্টের যে সমস্ত খাবার খেয়ে থাকি, সেসব খাবারে কী পরিমাণ ট্রান্সফ্যাট আছে তা একজন ভোক্তার পক্ষে বুঝা মুশকিল। সেজন্য দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ট্রান্সফ্যাটের ব্যবহার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নির্দেশিত মাত্রায় আনতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রত্যেক মানুষেরই সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা
‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’—বিষয়টির বিশাল তাত্পর্য রয়েছে। আসলে দেহ সুস্থ থাকলে মন সুস্থ থাকে, সকল কাজের প্রফুল্লতা আসে। আনন্দের মাঝে সকল কাজই সুস্থ সুন্দরভাবে সমাধান করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—আমরা নিজেদের শিক্ষিত দাবি করলেও আমরা সবই স্বাস্থ্য সচেতন নই। অনিয়মের বেড়াজালে আমরা ঘুরপাক খাই। অস্বাস্থ্যদের নেশার পণ্য জর্দা, গুল, বিড়ি, সিগারেট, তামাকসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ অখাদ্য আমরা সেবন করি। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই। নিজেদের সুন্দর, সুস্থ রাখতে সকল নেশা জাতীয় পণ্য, অস্বাস্থ্যকর খাবার বর্জন করি। নিয়ম মাফিক চলি, সুস্থ থাকি।
মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।
‘সুন্দর দেহে সুন্দর মন ইহাই স্বাস্থ্য’ আমরা মনে করি। কিন্তু সুন্দর দেহ হলেই হবে না—তার সঙ্গে মনও সুন্দর হতে হবে। মন সুন্দরের জন্য চাই সুন্দর স্বাস্থ্য। আর সে স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন নিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার ব্যবস্থা। সময় মতো কাজ করা। ভেজালমুক্ত খাদ্য গ্রহণ, পানি ফুটিয়ে খাওয়া; সিগারেট, জর্দাসহ অন্যান্য পণ্য দ্রব্য ত্যাগ করা।
হোসনে আরা বাশার
হাজারীবাগ, ঢাকা।
স্বাস্থ্য সুখের মূল। একথাটা স্কুল পর্যায় থেকে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময় এ সম্পর্কে তারা গুরুত্ব দেয় না। এর কারণ কর্মজীবনের ব্যস্ততা, হতাশা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। আমাদের দেশে হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কোনো সংস্থা নেই। যার কারণে সাধারণ মানুষ রোগাক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল বা ক্লিনিকের দিকে ছুটে যায়। তারা যদি স্বাস্থ্য সচেতন হতো তাহলে রোগব্যাধির আক্রমণ কম হতো এবং তাদের এভাবে ছুটাছুটি করতে হতো না। তবে কিছু কিছু সামাজিক সংগঠন তাদের নিজ উদ্যোগে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি মাঝে মাঝে গ্রহণ করে থাকে।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ।
স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলে রয়েছে ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া, রোগী হলেও তার নিজের সচেতনতা অবশ্যই থাকতে হবে। উক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলেই তার স্বাস্থ্য ঝুঁকির অবস্থা অনেক কমে আসবে।
মো. মারুফুজ্জামান
বাসাবো, ঢাকা।
বর্তমান যুগে যেখানে ভেজাল খাদ্যের ছড়াছড়ি, প্রতিনিয়ত বায়ুদূষণ, শব্দ দূষণ, অনিরাপদ পানি পান, ভেজাল ওষুধ ইত্যাদির কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই জীবিকার তাগিদে আমাদের ছুটে চলতে হচ্ছে দিনের পর দিন। তারপরও মানুষ ভালো থাকতে চায়। তাই প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা জোরদার করা। অবাধে খাদ্য গ্রহণ না করে ভেজালমুক্ত কম খাদ্য খাবো, পানি ফুটিয়ে খাবো, যাচাইবাছাই করে ভালো মানের ওষুধ কিনব। বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করব। শব্দদূষণ প্রতিহত করব। জীবন মানেই সুস্থ দেহে, সুন্দর মনের বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
মোহাম্মদ ইসলাম
পায়ের খোলা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা।
একজন মানুষের সুস্থ থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার সংসারের জন্য প্রয়োজন। শরীর সুস্থ রাখতে হলে কিছু নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করা প্রয়োজন। অখাদ্য/কুখাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। অতিরিক্ত রাত্রি জাগা পরিহার করে তাড়াতাড়ি বিছানায় শোয়া এবং সুপ্রভাতে ঘুম থেকে উঠে যার যার ধর্মের যেসব পালনীয় আছে সেগুলো পালন করা, নিয়মিত হাঁটাচলা করে নিজের শরীরটা সুস্থ রাখা। অযথা বিবাদে জড়িয়ে মস্তিষ্ককে অশান্ত না করা। একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে সত্ ও সুস্থ মনের অধিকারী হওয়া উচিত। তাহলেই একটি মানুষ সুস্থ থাকতে পারে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০ উত্তর পীরের বাগ
মিরপুর, ঢাকা।
যে কোন মানুষের জন্য সুস্থ থাকতে হলে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে নিয়মানুবর্তিতা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। এই সুশৃঙ্খল জীবনের জন্য প্রয়োজন ভেজালমুক্ত খাবার গ্রহণ করা। বিশ্রামসহ নিয়মমাফিক খাওয়া-দাওয়া করা। সুস্থ চিন্তাধারা নিয়ে জীবনধারণ বা কোনো টেনশন নয়। কোনোভাবে খাদ্য গ্রহণে ভেজাল রাখা যাবে না। অযথা শুধু শুধু নিজেকে অবহেলা না করা।
করিম
রিক, ধানমন্ডি, ঢাকা।
‘স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল’—একথাটি যথাযথ সঠিক। স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে দুনিয়াটাই ভালো লাগে না। মন মেজাজ, মানসিকতা, কোনো কিছুই যেন ভালো লাগে না। ভালো জিনিসও ভালো লাগে না। স্বাস্থ্য এমনই একটি বিষয়। স্বাস্থ্য বিষয়ে আমরা নিজেরাও যতটুকু সচেতন সেটাও আজ ভাবনার বিষয়। আমরা নিজেরাই অনেকটা দায়ী এর জন্য। অসময়ে খাওয়া-দাওয়া, ভূরিভোজ, সামনে যা আছে খেয়ে ফেলছি। কোনো শৃঙ্খলাবোধ মানছি না। সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করছি না। অখাদ্য খাবার খাচ্ছি। ভেজাল খাদ্য খাচ্ছি। অসুস্থ হয়ে পড়ছি। হাসপাতালে দৌড়াচ্ছি, চিকিত্সা নিচ্ছি। কিন্তু ভালো হচ্ছি না। কখনো কখনো আবার ভেজাল ওষুধও খেয়ে ফেলছি। তাই আমাদের প্রত্যাশা, নিজেরা সচেতন হই নিজেদের বসবাসের স্থান, সুন্দর রাখি, নিয়মমাফিক আহার করি, ভেজালমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখি। তাহলেই ভালো থাকব।
মো. মিজানুর রহমান প্রধান
৫ নং বাউশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
থানা : গজারিয়া, জেলা :মুন্সীগঞ্জ।
