রোহিঙ্গা নির্যাতনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী আদালত বসাতে হবে

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০৪

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ইয়াং হি লি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিচালিত অত্যাচার ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী আদালত স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এই আদালত চলমান অন্য বিচার প্রক্রিয়ার সম্পূরক হবে। তিনি জানান, আগামী মার্চ মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে এই প্রস্তাব বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশ দেওয়া হবে। সিয়েরা লিওন, রুয়ান্ডা বা বসনিয়ায় যেভাবে গণহত্যার বিচার হয়েছে, প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী আদালত তার অনুরূপ হবে। জাতিসংঘ র্যাপোর্টিয়ার ইয়াং হি লি গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। ইয়াং হি লি ছয় বছর ধরে মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। মার্চ মাসে তার মেয়াদ শেষ হবে। তিনি একাধিকবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সফর করেন। বার বার আবেদন সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার তাকে সে দেশে যাবার অনুমতি দেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, এখন মিয়ানমারের উচিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া। সংকট নিরসনে দীর্ঘসূত্রতা বা দায়িত্বে অবহেলা করা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আস্থায় নিয়ে কাজ করা উচিত। তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দুই সদস্য চীন ও রাশিয়ার সমালোচনা করে বলেন, এই দুটি দেশের ভূমিকা লজ্জাজনক। তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা না জানিয়ে বিশ্বের নেতা হওয়া যায় না। মিয়ানমারে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছে—এটা স্বীকার করে বিচার ও জবাবদিহিতা চাইতে হবে এ দুটি দেশকে।