তালিকায় বাংলাদেশের উন্নতি হলেও দুর্নীতি আগের মতো

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:৫০

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম (নিম্নক্রম অনুযায়ী)। ২০১৮ সালে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৩তম। অন্যদিকে কম দুর্নীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম (উচ্চক্রম অনুযায়ী)। গতবার বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম। অবস্থানের হিসেবে বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ২০১৯ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) ভালো করেছে বাংলাদেশ।

তবে দুর্নীতি কমেনি! কারণ সিপিআই’র মানদণ্ড ১০০ স্কেলের মধ্যে বাংলাদেশ স্কোর করেছে ২৬। ২০১৮ সালেও বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৬। ট্রান্সপারেন্সি        ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের মতে, দুর্নীতির ক্রমানুসারে উন্নতি হলেও স্কোর বাড়েনি। সিপিআইতে স্কোরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কোনো দেশ হয়তো বেশি খারাপ করেছে, তাই বাংলাদেশের অবস্থানে পরিবর্তন হয়েছে। এতে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

টিআইবি বলছে, বৈশ্বিক গড় স্কোরের (৪৩) তুলনায় এবারো বাংলাদেশের স্কোর অনেক কম। ফলে দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতা এখনো উদ্বেগজনক। এই প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুধুই প্রতিশ্রুতি আর স্বল্প পরিসরের অভিযানের বাইরে গিয়ে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বার্লিনভিত্তিক টিআইর দুর্নীতির ধারণা সূচক-২০১৯ একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। 

সিপিআইর শূন্য থেকে ১০০ স্কেল এর ‘শূন্য’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির কারণে সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত বা সর্বাধিক সুশাসিত বলে ধারণা করা হয়। এবার সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোনো দেশই শতভাগ স্কোর পায়নি। অর্থাত্ কোনো দেশই শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত নয়। ২০১৯ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৮৭ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড। ৮৬ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড। ৮৫ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও সুইডেন। আর সর্বনিম্ন ৯ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে সোমালিয়া। ১২ স্কোর নিয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান। ১৩ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের তৃতীয় দেশ সিরিয়া আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন (স্কোর ১৫)।

এ বছরের সূচকে বাংলাদেশ উচ্চক্রম ও নিম্নক্রম অনুযায়ী ভালো করেছে। তবে সিপিআইর ১০০ এর মধ্যে স্কোর গতবারের মতো ২৬। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে এবার একই অবস্থানে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইরান, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়া। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় শীর্ষ দুর্নীতির দেশ বাংলাদেশ। সবচেয়ে কম দুর্নীতির দেশ ভুটান। এর পরের অবস্থানে যথাক্রমে রয়েছে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও নেপাল।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যদি রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা যেত, অবস্থান ও পরিচয় নির্বিশেষে আইনের কঠোর প্রয়োগ হতো তাহলে আমাদের স্কোর ও অবস্থানে আরো উন্নতি হতে পারতো। সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশা বাড়লেও বাস্তবে কথিত ‘গডফাদার’দের বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে এক ধরনের শঙ্কা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতাবানদের প্রত্যাশা ও চাহিদার প্রতিফলন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শুদ্ধাচারের ঘাটতি বিশেষ করে রাজনৈতিক অর্থায়নে শুদ্ধাচার ও স্বচ্ছতার ঘাটতি, অর্থপাচার ও ব্যাংকিংখাতে দুর্নীতির ক্ষেত্রে আলোচিত মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার মতো বিষয়গুলোর কারণে এই সূচকে আমাদের অবস্থান আরো ভালো হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে এটা যেমন সত্য ও গৌরবের, তেমনি এই অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত হতো, আরো সুষম ও টেকসইভাবে হতে পারত যদি কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত। টিআইবির চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির ব্যবহার হচ্ছে কোথায়, কার ভোগে যাচ্ছে, সেটা সঠিকভাবে বণ্টন হচ্ছে কি না তা দেখতে হবে।