স্পোর্টস রিপোর্টার
নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আতিথ্য দিচ্ছে পাকিস্তান। মাঠের বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জাল, লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের মাঠের ভেতরে ২২ গজে বাংলাদেশ দলকে দলগত পারফরম্যান্সের দাপটে আটকে রেখেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জ্বলে উঠতে দেননি পাকিস্তানের বোলাররা। বাংলাদেশের স্কোরটা তাই স্বাগতিকদের নাগালের বাইরে যায়নি। পরে অভিজ্ঞ শোয়েব মালিকের বিশ্বস্ত ব্যাটে ভর করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
গতকাল সিরিজের প্রথম টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। আজ একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নামবে দুই দল। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৪১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে তিন বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে ১৪২ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। হাফ সেঞ্চুরি করা শোয়েব মালিক ম্যাচ সেরা হন।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের উইকেটটা বেশ ধীরগতির ছিল। কন্ডিশনের পূর্ণ ব্যবহার করেছেন পাকিস্তানের বোলাররা। একইভাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিংও টি-২০ সুলভ ছিল না। যেখানে গোটা ইনিংসে ১৩টি চারের সঙ্গে ছিল মাত্র তিনটি ছক্কা। ব্যাটিংয়ে ছিল আগুনের অভাব। যার ফলে স্কোরবোর্ডে যে রান উঠেছে তা নিতান্তই অপ্রতুল ছিল। তারপরও বোলারদের কল্যাণে লড়াইটা করেছে বাংলাদেশ। তবে ফিল্ডাররা বোলারদের সাপোর্টটা দিতে পারেননি। ক্যাচ পড়েছে দুটি।
টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশকে সতর্ক শুরু এনে দেন তামিম-নাঈম শেখ। পাল্লা দিয়ে ডট বল খেলেছেন দুই বাঁহাতি ওপেনার। অভিজ্ঞ তামিমের (১১৪.৭০) কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট নিয়ে খেলেছেন নাঈম শেখ (১০৪)। ওপেনিংয়ে এমন তেজহীন ব্যাটিং টি-২০ তে কতটা কার্যকর হবে, এই ম্যাচের পর টিম ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়ই ভাবতে বাধ্য হবে। ১১তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ওপেনাররা। দুই জন সেট ব্যাটসম্যান হলেও রান উঠেছিল ৭১। তামিম রান আউট হয়েছিলেন ৩৪ বলে ৩৯ রান করে।
দলীয় ৯৮ রানে লিটন দাসও (১২) রান আউট হয়ে ফিরেন। ১৫তম ওভারে নাঈম শেখ থামেন শাদাব খানের বলে। তিনি ৪১ বলে ৪৩ রান করেন। ১৫ ওভারে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করেছিল বাংলাদেশ। হাতে ছিল ৭ উইকেট। এমন মঞ্চ পেলেও শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৪১ রান যোগ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। তামিমদের স্লো ব্যাটিংয়ের পর শেষ দিকে বড়ো শট খেলতে না পারার ব্যর্থতা পুড়িয়েছে সফরকারীদের। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ১৪ বলে অপরাজিত ১৯, আফিফ ৯, সৌম্য ৭, মিঠুন অপরাজিত ৫ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে শাহীন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও শাদাব খান একটি করে উইকেট নেন।
টার্গেটটা বড়ো নয় বলে তেড়ে-ফুড়ে খেলার চেষ্টাও করেনি স্বাগতিকরা। চারে নেমে শোয়েব মালিকের হাফ সেঞ্চুরিই পাকিস্তানের জয়টা নিশ্চিত করে দেয়। ৪৫ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আহসান আলী ৩৬, হাফিজ ১৭, ইফতেখার ১৬ রান করেন। বাংলাদেশের শফিউল দুটি, মুস্তাফিজ, আল-আমিন ও বিপ্লব একটি করে উইকেট পান।
ম্যাচ হারের বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, উইকেট বিস্মিত করেছে তাদেরকে। মাহমুদউল্লাহ বলেছেন, ‘উইকেট অবাক করা ছিল। বল পুরাতন ও নরম হওয়ার পর শট খেলা কঠিন ছিল। যদিও বোলাররা ভালো করেছে। আমরা ১৫ রান কম করেছি। অনেক বাউন্ডারি দিয়েছি। কিছু রানআউট ও ক্যাচের সুযোগ মিস করেছি। আমরা সামনের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছি।’
