কুমিল্লায় নতুন বছরের ১৫ দিনে ছয় খুন

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০১

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় নতুন বছরের গত ১৫ দিনে ছয়টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ভিকটিমের নাম-পরিচয়ও শনাক্ত করেছে। প্রতিটি খুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘাতকরা ধরা পড়েনি, কিংবা এসব খুনের ক্লু উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে-শিগগিরই এসব খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে।

জানা যায়, নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া এলাকার গোমতি নদীর ব্রিজের নিচ থেকে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুরের (মুন্সেফ কোয়ার্টার) ডা. লিয়াকত আলীর ছেলে সাবাত হোসেনের (২৮) লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এর দুই দিন আগে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। থানার ওসি মো. আনোয়ারুল হক জানান, সাবাতকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর হাতে স্কচটেপ পেঁচিয়ে লাশ নদীতে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও খুনের ক্লু উদ্ঘাটন কিংবা ঘাতকরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

গত ৯ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকা থেকে মুরাদনগর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল আলম সাধনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরের মুখে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে- তাকে অন্যত্র হত্যার পর ওই স্থানে লাশ ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও খুনের ক্লু এখনো বের হয়নি এবং জড়িত কেউ শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার হয়নি। এদিকে নিখোঁজের ছয় দিন পর গত ১১ জানুয়ারি রাতে লালমাই উপজেলার পালপাড়া গ্রামের জুয়েল রানার শিশুপুত্র আবু সুফিয়ান সানীর (৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও খুনিরা এখনো অধরা রয়ে গেছে। লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, সানীর বাবা প্রবাসে থাকেন এবং মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন। সে তার দাদার কাছে ছিল। ঐদিন তার লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডি কাজ করছে।

গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জেলার চান্দিনার নাওতলা এলাকায় বীভত্স ও লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। সেখানের একটি মার্কেটের নৈশপ্রহরী ও ক্ষুদে ব্যবসায়ী নাওতলা গ্রামের রবিউল্লাহর ছেলে মো. নাছিরউদ্দিনের (২৬) দেহের টুকরো টুকরো মাংস পড়েছিল মহাসড়কের এখানে-সেখানে। পুলিশ মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এ মাংসের টুকরোগুলো উদ্ধার করে। চান্দিনা থানার ওসি মো.আবুল ফয়সল জানান, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ফলে এই হত্যার রহস্য এখনো অজানা রয়ে গেছে।

সর্বশেষ জেলার বরুড়া উপজেলায় গত মঙ্গল ও বুধবার দুটি খুনের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাতে ঐ উপজেলার নবীপুর গ্রামের একটি টম্যাটো খেতের মধ্যে ঐ গ্রামের আমেনা আক্তার (২৫) নামের এক যুবতীর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন আমেনার বাবা মাজেদ মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় বাশার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল বাহার জানান, গ্রেফতার হওয়া বাশার ঐ যুবতীকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে পরদিন বুধবার (১৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে ‘কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১’-এর অধীন জেলার বরুড়া উপজেলার আড্ডা বিদ্যুত্ অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের স্কুলশিক্ষক সাইফউদ্দিন খানের ছেলে শরীফউদ্দিন খানকে (৪৫) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। তিনি তার কর্মস্থলের পার্শ্বের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মোনালিসা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার আসামির বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করলেও এখনো হত্যার ক্লু উদ্ঘাটন এবং জড়িত কাউকে শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এসব ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ কাজ করছে। শিগগিরই জড়িতদের গ্রেফতার ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করছি।