মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে মিরপুরের চলন্তিকা বস্তিতে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার ভোর ৪টা ১১ মিনিটে মিরপুরের ৬ নম্বর ই-ব্লকের ঐ বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে বস্তির শতাধিক ঘর, বস্তিতে থাকা ভ্যান ও রিকশা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে দগ্ধ হন দুই ব্যক্তি। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে এ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে গত বছরের ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় এই বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়।
গতকালের অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার জানান, ভোর ৪টা ১১ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর ১৫টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ভোর পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ৩৫ বছর বয়স্ক এক নারীসহ দুই জন দগ্ধ হন। তবে তাদের নামপরিচয় জানা যায়নি। দগ্ধ অজ্ঞাত ঐ নারীকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করেন। বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকরা জানান, আগুনে ঐ নারীর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
বস্তিবাসীরা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ভোরের দিকে হঠাত্ করে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ১০ মিনিটের মধ্যেই ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তারা তখন ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। বস্তিবাসীর অনেকে বালু হাতে নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এসময় ঐ দুই ব্যক্তি দগ্ধ হন।
বস্তিবাসী আরো জানায়, গতকালের আগুন তাদের সর্বশান্ত করে ছেড়েছে। যা ছিল সব পুড়েছে। বাদ যায়নি ঘরের আলনা, আলমিরা, হাড়ি-পাতিল, ভ্যান, রিকশা, কাপড়, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও বস্তিতে থাকা দোকানের মালামালও। বস্তিবাসীর অনেকে জানিয়েছে, হঠাত্ আগুনের শব্দে ঘুম ভাঙে। এসময় অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। ফলে ঘরে থাকা জিনিসপত্র তারা নিতে পারেননি। অনেকের চোখের সামনেই সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
চলন্তিকা বস্তিতে আগুনের ঘটনায় সময় দুটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে দেখেছেন বলে জানান বস্তিবাসীর অনেকেই। তারা বলেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এর পরপরই আগুন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ভয়াবহ আগুনে নিমিষেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফেন্সি নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে রনির মার (রহিমা হক) ঘরে আগুন দেখি। এর একটু পর একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। পরপরই আরো একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় তাতে দ্রুত গোটা বস্তি পুড়ে ছাই হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ঐ বস্তিতে হাজার হাজার অবৈধ বিদ্যুতের লাইন, হাজার হাজার চুলা ও গ্যাস লাইন রয়েছে। যখন আগুন নিভাচ্ছিলাম তখনও বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছিল। ফ্রিজ, গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ এ রকম হয়। ফ্রিজের যে কম্প্রেসার, তা বিস্ফোরণের মতো ছিল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর আগে আগুন চুলা থেকে লেগেছিল। আমরা সেই প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। এ ঘটনাও তদন্ত করে শিগগিরই প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
