ভিক্ষা করে সংসার চলে, ভাতার টাকায় ছেলে পড়ে

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৬

তিন বেলা যে ঠিক মতো খাবেন সেই সামর্থ্য নেই। তারপরেও স্বপ্ন দেখেন ছেলে লেখাপড়া করে বড় হবে। বলছিলাম ঝিনাইদহের বৃদ্ধা সোকিনা খাতুনের কথা। 

মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামে থাকেন এই বৃদ্ধা। তার স্বামী তক্কেল মণ্ডল মারা গেছেন অনেক আগেই। নিজেই ভিক্ষা করে কোনো মতে খাবারের ব্যবস্থা করছেন। আর সরকারের থেকে যে ভাতা পান তা ছেলের লেখাপড়ায় খরচ করেন।

সোকিনা খাতুন জানান, তিন শতক ভিটা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই তার। দুই মেয়ে ও এক ছেলে। অনেক কষ্ট করে তিন ছেলে মেয়েকে লালন-পালন করে আসছেন। সম্প্রতি মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে আব্দুস সালাম জলিলপুর মাদ্রাসায় ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। মহেশপুর শহরে ভিক্ষা করার সময় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় সোকিনা খাতুনের। 

তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছ থেকে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। সে টাকা দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগান আর ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে দুজনের সংসার কোনো রকম চলে। বয়সের ভারে ঠিকমত হাটতে পারেন না। তবুও স্বপ্ন ছেলেকে লেখাপড়া শেখাবেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তার সে ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা সেটা নিয়ে অনিশ্চিত তিনি।

কান্না জড়িত কণ্ঠে সোকিনা খাতুন বলেন, আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন, আল্লাহ ছাড়া তার দেখার কেউ নেই।

ইত্তেফাক/জেডএইচ