/ মাহাথির মোবারক
খুব সকালেই ঘুম থেকে জেগে মন্টু তার বন্ধু সেন্টুকে ডাকতে আরম্ভ করল। সেন্টু এত সকালে মন্টুকে দেখে বিরক্তি বোধ করে কর্কট ভাষায় বলল, ‘এত সকালে আমাকে জাগিয়ে তুললে কেন?’ মন্টু আনন্দচিত্তে জবাব দিল, ‘গত শুক্রবারে মসজিদে দেরি করে যাওয়ার কারণে জিলাপি খেতে পারিনি, তাই আজ সকাল সকাল মসজিদে গিয়ে হাজির হব। শুনেছি আমাদের মাতব্বর সাহেব নাকি আজ মসজিদে ১০ কেজি জিলাপি দেবে।’ জিলাপির কথা শুনে সেন্টুর মুখে পানি চলে এলো। তার ঘুম দৌড়ে পালাল। এক লাফেই বিছানা ছেড়ে জলদি গোসল করে ভালো একটা পাঞ্জাবি পরে আর একটা টুপি নিয়ে সকাল সকাল মসজিদে হাজির হয়ে গেল। মসজিদের ইমাম সাহেব মন্টু আর সেন্টুকে দেখে তো পুরো অবাক হয়ে গেলেন! জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীরে তোরা আজ এত সকাল সকাল মসজিদে চলে আসলি যে?’ মন্টু বড়ো গলায় বলল, ‘হুজুর আর বলিয়েন না, আমরা আজ থেকে সমস্ত নামাজ পড়ব বলে নিয়ত করেছি, তাই সকাল সকাল চলে আসলাম।’ একটু পরই মন্টু ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করল, ‘হুজুর! মসজিদে আজ জিলাপি আসবে না?’ হুজুর বলল, ‘না তো! জিলাপি আসবে না। কিন্তু কেন?’ মন্টু বলল, ‘এমনিতেই জিজ্ঞেস করলাম।’ একটু পরই মন্টু আর সেন্টু এই মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে চলে গেল। আজানের একটু পরই দেখা গেল মাতব্বর সাহেব ১০ কেজি জিলাপি নিয়ে এলো। জিলাপি দেখে তো তারা খুব খুশি। আজ মন ভরে জিলাপি খাবে। নামাজের পর যখন হুজুর অনেক লম্বা দোয়া ধরল, তখন মন্টু সেন্টুকে বলতে লাগল, ‘দোস্ত! এই মসজিদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে আমরা অন্য একটা মসজিদ হতে জিলাপি নিয়ে আসি, তারপর এখান থেকে আবার জিলাপি নেব।’ মন্টুর কথায় সেন্টুও রাজি হয়ে গেল। এবং অন্য মসজিদে যাওয়ার পর দেখতে পেল এই মসজিদে জিলাপি দেওয়া শেষ হয়ে গেছে। আফসোস করে মন্টু আর সেন্টু আবার জলদি দৌড়ে এলো আগের মসজিদে। এখানে এসে দেখে এখানেও জিলাপি দেওয়া মাত্র শেষ হয়ে গেল। আর কোনো জিলাপি নেই। এই অবস্থা দেখে মন্টু আর সেন্টুর মাথায় আগুন ধরে গেল। আর বলতে লাগল, ‘হায় আফসোস! এটা কী করলাম, বেশি লোভ করতে গিয়ে সবকিছুই তো এখন হারিয়ে ফেললাম।’ তারপর দুজন ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে গেল, আর বলতে লাগল, ‘শুধু তোর কারণেই আজও জিলাপি খাওয়া হলো না।’
ঠিকানাবিহীন
