স্পোর্টস রিপোর্টার
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে দর্শক খুব একটা হবে না এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু গতকাল দুপুরের পরই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শক জায়গা দখল করেছে। তরুণ দর্শকদেরই বেশি দেখা গেল। পুরুষ এবং নারী দর্শক ফাইনাল উপভোগ করেছে। তবে আফসোস করেছে নিজের দেশ না থাকায়।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে প্রথম খেলায় ফিলিস্তিনের কাছে হেরে গেলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ খেলে ৩-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল। বুরুন্ডির বিপক্ষে বাংলাদেশের ফুটবল দেখে দর্শক খুশি হলেও গোল করতে পারেনি। গোলের খেলা ফুটবল গোলই যদি না হয় তাহলে সেই ম্যাচে ভালো খেলে কি লাভ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলেল ষষ্ঠ আসরে দুই গ্রুপে ছয় দল খেলেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ফিলিস্তিন, শ্রীলঙ্কা ছিল। এবার নতুন দল ছিল বুরুন্ডি, সিসেলস, মরিসাশ। এদের মধ্যে বুরুন্ডির খেলা দর্শকদের ভালো লেগেছে বলে তাদের কণ্ঠে শোনা গেল।
কালীগঞ্জ থেকে আসা ইমরুল। তার হাতে নৌকা মার্কা ব্যানার। নির্বাচনি ক্যাম্পেইন করতে গিয়েছিলেন। জানতেন বাংলাদেশ নেই। তার পরও খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যমকে পেয়ে আক্ষেপের কথা ঝরল তার কণ্ঠে। বলছিলেন খেলা দেখতে এসেছি ঠিকই তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা যদি খেলত তাহলে আমি খুশি হতাম। আমরা ধরে নিয়েছিলাম বাংলাদেশ ফাইনাল খেলবে। বুরুন্ডির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। এটা দুঃখজনক এত সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি।’ সদরঘাট থেকে আসা রেজাউল বললেন, ‘বাংলাদেশের আরো প্রশিক্ষণ দরকার। কেন গোল করতে পারেনি তা বুঝাই যায় স্ট্রাইকারদের আরো প্রশিক্ষণ দরকার।’ এই দর্শক বাফুফেকে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি ব্যানার হাতে স্টেডিয়ামে গিয়ে ফুটবল খেলা দেখেছেন এমন কয়েক হাজার দর্শক। ফাইনালের খেলাটা মিস করতে চাননি তারা। বাংলাদেশের খেলাও নাকি দেখেছিলেন বুরুন্ডির বিপক্ষে। নিজের দেশ ফাইনালে না থাকলেও বুরুন্ডির খেলায় আকৃষ্ট হয়ে ফাইনাল খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন। তাদের কণ্ঠেও আফসোস, বাংলাদেশ ফাইনালে উঠার মতোই দল ছিল বললেন সজিব।
সম্পা নামের একজন নারী দর্শক ক্ষোভ নিয়ে বলছিলেন ওরা কি মেসি-রোনালদোর খেলা দেখে না। তারা কতটা অনুশীলন করে সেটা কি দেখে না। শেখার কোনো আগ্রহ নেই। আমরা বুঝি আমাদের সামর্থ্য কম। তার পরও ফুটবলের যে মান তাতে এরচেয়েও ভালো খেলার সক্ষমতা রয়েছে আমাদের ফুটবলারদের।
